নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: সন্দেশখালির পরিস্থিতি নিয়ে এমনিতেই চলছে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত। পুরো পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।খরাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর কাছ থেকে পুরো ঘটনার রিপোর্ট নিয়েছেন তিনি। এবার ন্যাজাত ঘুরে এসে সেই অমিত শাহকেই চিঠি লিখলেন মুকুল রায়।

চিঠিতে ন্যাজাটের ঘটনার জন্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন মুকুল রায়। লিখছেন, তৃণমূল সুপ্রিমোর মদতেই রাজ্য জুড়ে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসে একের পর এক মৃত্যু হচ্ছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে বলে উল্লেক করে মুকুল রায় বলেছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে।

অমিত শাহ যে অ্যাডভাইজারি পাঠিয়েছিলেন রাজ্যকে, তা সঠিক সিদ্ধান্ত বলেও উল্লেখ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের সহযোগী এই বিজেপি নেতা। এর আগে তৃণমূলের তরফ থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে অমিত শাহকে। সেকথা উল্লেখ করে মুকুল বলেন, পরিস্থিতি ধামাচাপা দিতেই ওই চিঠি পাঠানো হয়।

বসিরহাটের ন্যাজাটে রাজনৈতিক সংঘর্ষের খবর কানে পৌঁছাতেই শনিবার রাতে রিপোর্ট তলব করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক৷ রবিবার কেন্দ্রের তরফে অ্যাডভাইজারি এসে পৌঁছায় রাজ্যের কাছে৷ যাতে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, বসিরহাটে শান্তি বজায় রাখতে যা যা প্রয়োজন, সেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ যেন নেওয়া হয় রাজ্য সরকারের তরফে৷

অ্যাডভাইজারিতে এও বলা হয় যে, এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা যেসব পুলিশ কর্মী বা আধিকারিক নিজেদের দায়িত্ব ঠিকমত পালন করেননি, তাঁদের ওখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক৷ এরপরই অমিত শাহকে চিঠি লিখে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷

রাতেই তৃণমূলের তরফে কেন্দ্রের এই অ্যাডভাইজারির বিরোধিতা করা হয়৷ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানানো হয়, বাংলার সঙ্গে ফের বিমাতৃসুলভ আচরণ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ সোমবার সকালেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলা যথেষ্ট শান্তিপূর্ণ৷ তাতে উস্কানি দিয়ে অশান্তি করার চক্রান্ত চলছে বিজেপির তরফে৷ এর মাধ্যমে রাজ্যবাসীকে অপমান করা হয়েছে বলে পালটা অভিযোগ তৃণমূলের৷

মুকুলের দাবি সন্দেশখালিতে কোনও রাজনৈতিক সংঘর্ষ হয়ই নি। একতরফা গুলি করে অন্য পক্ষকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ন্যাজাত বর্ডার এরিয়া। একটু এগোলেই বাংলাদেশ। বাংলাদেশ থেকে ওখানে অস্ত্র ঢোকে। বাংলাদেশে লোক পালিয়ে যায়। বাংলাদেশের খুনি, তাই এনআইএ তদন্ত চাই। ওখানে কোনো সংঘর্ষ হয়নি।”

মঙ্গলবারই উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে গিয়েছিলেন মুকুল। নিহত বিজেপি কর্মীদের সৎকারে যোগ দেন তিনি। নিহতদের পরিবারকে ৫০,০০০ টাকা করেও দিয়েছেন মুকুল রায়।