স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিজেপিতে যোগদান করতে চেয়ে ১০৮ জন তৃণমূল বিধায়ক অমিত শাহকে চিঠি দিয়েছেন । এমনই দাবি করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। অমিত শাহকে লেখা দেবশ্রী রায়ের চিঠি প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন তিনি।

শোনা যাচ্ছে, বিজেপিতে যোগদান করতে চেয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে চিঠি লিখলেন রায়দিঘির তৃণমূল বিধায়ক দেবশ্রী রায়। দেবশ্রী রায়ের চিঠি প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে বুধবার মুকুল রায় বলেন, “শুধু দেবশ্রী কেন প্রায় ১১০ জন লোক চিঠি দিয়েছেন। সিপিএম, তৃণমূল ও কংগ্রেসও আছে।” এরপরই তাঁর আরও সংযোজন, “আমি তো আগেই তালিকা দেখিয়েছিলাম। তৃণমূল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে আসতে চাইছেন ১০৮ জন বিধায়ক।” আর এই প্রসঙ্গ টেনেই মুকুল রায় দাবি করেন, আগামি নির্বাচনেও ছবিটা আরও পরিষ্কার হবে। বিজেপি আরও আসনে জিতবেন।

এদিকে, এদিনই হালিশহর, কাঁচরাপাড়া, গারুলিয়া, বনগাঁর মতো অর্জুন-দুর্গের ভাটপাড়া পুরসভাও ধরে রাখতে পারল না বিজেপি। বুধবার দুপুরেই বিজেপিতে যোগ দেওয়া ভাটাপাড়ার ১২জন কাউন্সিলর ফিরে এসেছেন তৃণমূলে। এব্যাপারে মুকুল রায়ের দাবি, “কেউ স্বেচ্ছায় তৃণমূলে যাচ্ছেন না। সবাই ভয়ে গিয়েছেন। মিথ্যা মামলার ভয়ে তৃণমূলে যাচ্ছেন।”

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই একটি কাগজ দেখিয়ে মুকুল রায় দাবি করেছিলেন, ১০৭ জন তৃণমূল বিধায়ক বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে৷ সেইসময় মুকুল রায়কে কটাক্ষের সুরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “ওঁকে কেউ বলছেন বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য, কেউ বলছেন মাস্টারস্ট্রোক, কেউ বলছেন দোর্দন্ডপ্রতাপ নেতা। চাণক্য কি না জানি না, তবে চাণক্যের নীচে মেড ইন চায়না লেখা থাকা উচিত। তিনি নিজেকে সর্বভারতীয় নেতা হিসেবে দাবি করছেন, অথচ নিজের পাড়ার কাউন্সিলরকেই রক্ষা করতে পারছেন না। নিজের গড় রক্ষা করতে পারছেন না। তো লজ্জা হওয়া উচিত। সে নাকি ১০৭ জন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলবে! যদি নীতিবোধ থাকে, তাহলে অন্য বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলার আগে একশো বার ভাববেন। আগে বলত ১০০, এখন বলছে ১০৭, ক’দিন বাদে বলবে ১১৭, বাংলায় একটা কথা আছে না, ঘরে নেই নুন, ছেলে আমার মিঠুন! মুকুল রায়ের ক্ষেত্রে একথাই প্রযোজ্য । ” সেইসঙ্গে মুকুলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বলেছিলেন, “নিজেরে ছেলেকে ধরে রাখতে পারবেন তো?। “

তবে তৃণমূলের কোনও কটাক্ষ, হুঁশিয়ারিকেই এখন আমল দিতে চাইছে না বিজেপি৷ রাজ্য বিজেপির এক নেতার কথায়, “পুরসভাগুলো ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোনও কারণ নেই৷ যে কোনও মুহূর্তেই খেলা ঘুরে যেতে পারে৷ “