স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নীলরতন সরকার হাসপাতাল (এনআরএস) এ পরিষেবা বন্ধ৷ কলকাতাসহ রাজ্যের অন্যান্য হাসপাতালেও পরিষেবা ব্যাহত৷ যে ঘটনার জন্য এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য তৃণমূলকেই দায়ী করছে বিজেপি৷

মঙ্গলবার বিজেপি সদর দফতরে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে জানান,এনআরএস হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তারদের ওপর যে হামলা হয়েছে,তা তৃণমূলের নেতৃত্বে হয়েছে৷ তিনি আরও বলেন, গতকালের ঘটনার পর একজন জুনিয়র ডাক্তার কোমায় রয়েছে৷ অথচ মুখ্যমন্ত্রী একটু সময় করে তাকে দেখতে যেতে পারলেন না৷ তবে হামলা নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ শাসক দল অস্বীকার করেছে৷

অন্যদিকে এনআরএস এ দফায় দফায় বৈঠকেও মিলছে না সমাধান সূত্র৷ এদিন হাসপাতালে যান রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা প্রদীপ মিত্র, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্য এবং নির্মল মাঝি৷ ছুটে যান কলকাতা পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা৷

শুধু এনআরএস হাসপাতালই নয় কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে চলছে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি৷ দুর্ভোগে পড়েছে বহু চিকিৎসাধীন রোগী ও হয়রানির শিকার রোগীর আত্মীয়রা৷ এখনও পর্যন্ত পুলিশ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে৷

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার গভীর রাতে৷ রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে সরকারি ওই হাসপাতাল চত্ত্বর৷ অভিযোগ, জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রথমে মারধর করে মৃতের বাড়ির পরিবারকে৷ পরে পাল্টা মারধর করা হয় জুনিয়র চিকিৎসকদের৷ এতেই আহত হন দুই হবু চিকিৎসক৷ বর্তমানে তারা নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন৷ পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে লাঠি চার্জ করতে হয়৷

নিরাপত্তাহীনতায় জুনিয়র চিকিৎসকরা৷ বারংবার তাদের নিগ্রহের শিকার হতে হচ্ছে৷ প্রতিবাদে এদিন সকাল থেকেই হাসপাতালের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে জুনিয়র চিকিৎসকরা৷ রাতভর এই অবস্থান করা হয়৷ তাদের দাবী,নিরাপত্তা সুনিশ্চিৎ না হলে গেট খোলা হবে না৷ পরে রোগী ও তাদের ক্ষোভের সামনে পড়তে হয় চিকিৎসকদের৷ বেলা বাড়তেই সহ্যের সীমা ছাড়ায় রোগীর পরিবারের মানুষদের৷ একযোগে হাসপাতালের গেটের তালা ভেঙে দেন তারা৷ ঢুকে পড়েন হাসপাতালের মধ্যে৷ যদিও পরিষেবা আর চালু হয়নি৷ কিছুক্ষণ পর ফের আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা হাসপাতালের গেট বন্ধ করে দেন৷