স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রথম থেকেই তিনি বলে আসছিলেন রাজ্যের সাতাত্তর হাজার বুথে তাঁর অনুগামী রয়েছে৷ শুক্রবার রানী রাসমনি রোডে বিজেপির সভায় নিজের সেই শক্তির কিঞ্চিৎ প্রমাণ দিলেন পদ্ম বনে সদ্য নাম লেখানো মুকুল রায়৷ তেমন হেভিওয়েট নামকে গেরুয়া বলে টানলেন না তিনি ঠিকই, তবে গোড়া থেকেই শাসক দলকে ভাঙার কাজ শুরু করলেন তৃণমূলের একদা ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’৷

শুক্রবারের রানী রাসমনি রোডের সভা থেকেই পঞ্চায়েত ভোটের দামামা বাজিয়ে দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি৷ সেখানে গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল স্তরের কর্মীরাই৷ তা ভালো মতো জানেন রাজনীতির চাণক্য মুকুল রায়৷ ফলে শুক্রবার ঘাস ফুল ছেড়ে পদ্মফুল হাতে তুলে নিলো রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রায় সাত হাজার মুকুল অনুগামী। তালিকায় রয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগণার ক্যানিং, পাথরপ্রতীমা, সুন্দরবন, নদীয়া, মেদিনীপুরের খেজুরি, কেশপুর, গড়বেতা, বর্ধমান, দক্ষিণ দিনাজপুর। এছাড়া তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় দক্ষিণ কলকাতা থেকে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে প্রায় ২০০ জন। তৃণমূল যুব কংগ্রেসের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক প্রীতম দত্তের নেতৃত্বে মূলত এরা যোগদান করলেন বিজেপিতে। এখানেই শেষ নয়, তৃণমূল নেত্রীর সংখ্যা লঘু ভোট ব্যাংকেও সম্ভবত শুক্রবার থাবা বসাল মুকুল রায়।

শুক্রবার রানী রাসমনি রোডের সভায় পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নিলেন সাঁইথিয়া পুরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জু রায়৷ এছাড়া রয়েছে সুখদেব সিং, অনুপমা ঘোষাল, রাধাকান্ত মাইতি, জয়দেব মাইতি ও উত্তর-২৪-পরগণা জেলা পরিষধের কর্মাধ্যক্ষ পার্থসারথী পাত্র৷ বছর শেষেই রাজ্যে সম্ভবত হতে চলেছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। যা অবশ্যই হবে দক্ষ সংগঠক মুকুল রায়ের ক্ষমতার অ্যাসিড টেস্ট। রাজনৈতিক মহলের ধারনা, সেই লক্ষ্যেই এখনই কোনও হেভিওয়েটকে পদ্ম শিবিরে যোগদান না করিয়ে তৃণমূল স্তরের কর্মীদের টার্গেট করেছেন চাণক্য মুকুল।