কলকাতা:  নির্বাচনী লড়াইয়ে তাঁর ভূমিকা পশ্চিমবঙ্গে প্রয়াত বাম নেতা অনিল বিশ্বাসের সমতুল্য৷ অনিলবাবুর প্রয়াণের পর বামেদের নির্বাচনী রণকৌশলে যে খরা দেখা গিয়েছে তাতে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হয়েছে এক সময়ের শাসক পক্ষের৷ আর ২০১১ সালে পরিবর্তনের পর তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর সংগঠনকে ধরে রাখতে মুকুল রায় ছিলেন স্তম্ভের মতো৷

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের ছায়াসঙ্গী মুকুল রায় এখন দিদির পাশে নেই৷ তিনি দল পরিবর্তন করার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সংগঠনের ছায়া লম্বা হতে শুরু করে৷ সেই ছায়া যে একেবারে মমতার মাথায় এসে পড়তে চলেছে তার প্রমাণ মিলেছে ইভিএম খোলার সঙ্গে সঙ্গেই৷

মুকুল রায় বঙ্গ বিজেপিতে যেদিন এসেছিলেন সেই দিনই তাঁর ক্যারিশ্মা শুরু হয়েছিল৷ দমদম বিমান বন্দর থেকে তাঁকে স্বাগত জানানোর সেই পর্বে তৃণমূল কটাক্ষ করেছিল, হেসেছিল৷ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের গতি প্রকৃতিতে সেই হাসি উড়ে যেতে শুরু করেছে৷ জন রায় বলে দিচ্ছে, রাজ্যে মুকুল বিহীন তৃণমূল কংগ্রেসের খুঁটি নড়বড়ে৷

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াকু নেত্রী হিসেবেই বাম শাসিত রাজ্যে অগ্নিকন্যা হয়েছিলেন৷ ক্ষমতায় আসার পর তাঁর দলের রাজনৈতিক কৌশল দেখাটা ছিল মুকুলবাবুর কাজ৷ সেখানে দলীয় নেতাদের তেমন কোনও ভূমিকা ছিলনা বললেই চলে৷ তবে তিনি বিতর্কিত৷ নারদা মামলায় ছবি প্রকাশ হওয়ার পরেও তাঁকে নেওয়ার ঝুঁকি দেখিয়ে বিজেপি আখেরে লাভবানই হল৷

ফাইল ছবি

নতুন দলে আসার পরেই মুকুল রায় তাঁর হাতে গড়া তৃণমূলের উঁচু-মধ্যম-নিচু সর্বত্র অংশ থেকে ঘুঁটি সরিয়ে নিতে শুরু করেন৷ তারই ফলে বাংলার শাসক দলে নামে ধস৷ সেই সঙ্গে দেশে মোদী হাওয়ার দাপট কাজ করে৷ ক্রমে পুরনো দলের একেবারে গলা পর্যন্ত তিনি চেপে ধরতে শুরু করেছেন৷ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির অগ্রগতি দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত এরপর আরও আগ্রাসী মুকুল রায়কে দেখা যাবে বাংলার রাজনীতিতে৷ সেটা তৃণমূলের পক্ষে হবে চরম ক্ষতিকর৷