স্টাফ রিপোর্টার, কৃষ্ণনগর : সরাসরি মুকুল রায়কে বিধায়ক খুনের চক্রী বলে অভিযোগ তৃণমূলের। অভিযোগ খোদ নদীয়া জেলা তৃনমূল সভাপতির। হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন রাজ্যে প্রধান বিজেপিকে দেখে নেওয়ার।

সরস্বতী পুজোর জমজমাট বাজার। এমনই এক পুজোর অনুষ্ঠানেই তৃনমূল বিধায়ক সত্যজিত বিশ্বাসকে গুলি করে খুন করা হয়। এর অভিযোগ যে বিজেপির দিকে তৃনমূল ছুঁড়ে দেবেই সেটা খুব স্বাভাবিক বিষয় ছিল। কারণ এর আগেও রাজ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরে খুনখারাপির ঘটনা হলেই একে অপরের দিকে অভিযোগ ছুঁড়ে দেওয়ার ঘটনা দেখা গিয়েছে। বছর পাঁচেক আগেও যে অভিযোগের টার্গেট হত বাম, সেটাই এখন রামের দিকে গিয়েছে। পদ্মফুলের ক্ষেত্রেও ঘটনা একই হয়েছে।

মেদিনীপুরে বিজেপি কর্মীর গাছ থেকে ঝুলে থাকা মৃত দেহ ঘিরে চলা রাজনৈতিক লড়াই সেই ঘটনারই প্রমাণ। আজকেও সেই একে অপরের দিকে অভিযোগের তীর ছোঁড়ায় বাধা পড়েনি। তবে নদীয়া জেলা তৃনমূল সভাপতির ঘাস ফুল প্রাক্তনী মুকুল রায়ের দিকে এমন সরাসরি অভিযোগ করেছেন, এমন ঘটনাও সচরাচর ঘটে না। তিনি বলেন, “আমি ওখানে ছিলাম। আমি জানি এই খুনের পিছনে মুকুল রায়ের হাত রয়েছে। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব।” হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “খুনি তারাতারি ধরা পরবে। আমি বলে দিচ্ছে মুকুল রায় নদীয়ায় ঢুকলে ওর যে কি হাল করব তা ভবিষ্যতে দেখবে। এটা আমার চ্যালেঞ্জ।”

এদিকে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উরিয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “মুকুল রায় কলকাতায়। ওখানেই নেই। কোনও মানেই হয় না এসব অভিযোগের। আমি এও বলব বিজেপি এর সঙ্গে কোনও ভাবেই জড়িত নয়। এর আগে যখন ওদের কর্মীর মৃত্যুতেও আমাদের উপর দোষ দেওয়া হয়েছিল। পরে দেখা গিয়েছিল পারিবারিক অশান্তির জেরে। অকারণ আমাদের উপর দোষ দেওয়া হচ্ছে।”

শনিবার সন্ধ্যবেলা নদিয়ার ফুলবাড়িতে সরস্বতীর পুজোর এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন বিধায়ক সত্যজিত বিশ্বাস৷ সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদও৷ সেই মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে কাছ থেকে একাধিকবার গুলি করে খুন করে একদল দুষ্কৃতী৷ ঘতনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে৷

ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যেই রওনা দিয়েছে নদিয়া তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব৷ পৌঁছেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী৷ কী কারণে খুন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুষ্কৃতীরা বন্দুক ফেলে চম্পট দেয়। কোন পথে পালাল তারা তারই খোঁজ করছে পুলিশ।