স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: গুলিবিদ্ধ এক ছাত্র সহ তিন জনকে দেখতে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যান বিজেপি নেতা মুকুল রায়। মঙ্গলবার দুপুরে দলের বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর দুই সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্র ও স্বপন ঘোষ সহ দলের নেত্রী সুজাতা খাঁকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান।

নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে গিয়ে গুলিবিদ্ধ চিকিৎসাধীন তিন জন ও তাদের পরিবারের লোকেদের সাথে কথা বলেন। একই সঙ্গে চিকিৎসকের দেখা করে চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন মুকুল রায়।গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন তিন জনকে দেখে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মুকুল রায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, প্রত্যেকেই সংকটজনক, তবে স্থিতিশীল আছেন। অসুস্থ তিন জনের পাশে তাদের দল আছে দাবি করেন তিনি৷

পাত্রসায়রের ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘জয় শ্রী রাম ধ্বনি দেওয়ায় যদি গুলি খেতে হয় তবে এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক কিছু হয়না’। পুলিশ বলছে তারা গুলি চালায়নি, তাহলে ঐ গুলি চালালো কে প্রশ্ন তুলে মুকুল রায় এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘উনি জনাদেশ মানতে পারছেননা’। মুখ্যমন্ত্রী জনাদেশ মানতে না পেরেই পুলিশকে দিয়ে জায়গা দখলের চেষ্টা করছেন বলেও এদিন মুকুল রায় দাবি করেন।

এদিন তিনি বলেন ১৯৭৫ সালের আজকের দিনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন৷ সেদিন স্বঘোষিত জরুরি অবস্থা ছিল। আজ বাংলায় অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে।

বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে দলের নেতা মুকুল রায় আসার খবর পেয়ে অসংখ্য বিজেপি কর্মী জড়ো হয়ে যান। কর্মী সমর্থকদের হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অতি উৎসাহী অনেক কর্মী সমর্থককে মুকুল রায়ের সঙ্গে সেলফি তোলার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজেপি নেত্রী সুজাতা খাঁ হাত জোড় করে সংশ্লিষ্ট সকলকে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, শনিবার পাত্রসায়রে তৃণমূল নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পাত্রসায়রে দলীয় কর্মসূচি সেরে ফেরার পর স্থানীয় কাঁকরডাঙ্গা মোড়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হন অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্র সহ তিন জন। রাতেই বছর তেরোর সৌমেন বাউরী, তাপস বাউরী ও টুলু খাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তাদের চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনার পর বিজেপি তাদের সমর্থকদের উপর পুলিশের গুলি চালনার অভিযোগ তোলে।