নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: তখন ভোটের বালাই ছিল৷ বাংলায় পাকা জায়গার জন্য তখন গোটা রাজ্যে চষে বেড়িয়েছেন বিজেপির চাণক্য অমিত শাহ৷ সালটা ২০১৭৷ তবে বিজেপি রাজ্যে কিছুটা হলেও দ্বিতীয় প্রতিপক্ষের জায়গায় উঠে আসার চেষ্টা করছে৷ অমিত শাহের হাত ধরেই দলীয় কর্মীদের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারার চল শুরু হয়৷

তৎকালীন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে নিজের বাড়িতে পাত পেড়ে খাইয়ে এক লহমায় সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিলেন গীতা মাহাতো৷ জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে এই দলিত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজন করেন অমিত৷ রীতিমত মাটিতে বসে কলাপাতায় ভাত, রুটি, ডাল, পটলভাজা, আলু-পটলের তরকারি, দই, মিষ্টি খান বিজেপি সভাপতি৷ বিজেপি সভাপতিকে নিজের হাতে খাওয়াতে পেরে রীতিমত খুশি বিজেপি কর্মী গীতা মাহাতো৷

সেই শুরু৷ তারপর জনসংযোগ তৈরি করার ও নিজেদের মাটির কাছাকাছি থাকা নেতা হিসেবে প্রমাণ করার জন্য কোনও দলিতের বাড়িতে খাওয়াটা রীতি হয়ে দাঁড়ায়৷ এই রীতির ব্যতিক্রম হল না রবিবারও৷ সৌমিত্র খাঁ দীর্ঘ সাত মাস পরে কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে নিজের জেতা লোকসভা নির্বাচনী কেন্দ্র বাঁকুড়ায় প্রবেশ করতে সমর্থ হন৷ সঙ্গে ছিলেন মুকুল রায়৷য

এদিন বাঁকুড়ায় এক আদিবাসী পরিবারে মধ্যাহ্নভোজ সারেন তাঁরা৷ জনসংযোগের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে মধ্যাহ্নভোজকে বারবারই সামনে তুলে এনেছে বিজেপি৷ এদিন অমিত শাহের দেখানো পথ ধরেই বাঁকুড়ার ওই আদিবাসী পরিবারের সঙ্গে দুপুরের খাওয়া দাওয়া সারলেন দুই নেতা৷

২০১৭ সালের এপ্রিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের লোকসভা কেন্দ্রেই এক বিজেপি সমর্থকের বাড়িতে বসে মধ্যাহ্নভোজ সেরেছিলেন অমিত৷ তবে তৃণমূলও এই জনসংযোগের হাতিয়ারেই বিশ্বাস রাখছে এখন৷ নিন্দুকরা বলছেন পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরের নির্দেশ মেনেই প্রান্তিক মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পথে হাঁটছে মমতার দল৷