দেবময় ঘোষ, কলকাতা: নন্দীগ্রামের কায়দায় খুন হয়েছে সন্দেশখালিতে। বাংলার রাজনীতিতে আবার ফিরে এসেছে ‘খুনি মুখ্যমন্ত্রী।’ মন্তব্য, মুকুল রায়ের।

মঙ্গলবারই উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে গিয়েছিলেন মুকুল। নিহত বিজেপি কর্মীদের সৎকারে যোগ দেন তিনি। মুকুল যখন কলকাতায় ফিরেছেন, ততক্ষণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্যাসাগরের মূর্তির পুনঃস্থাপন করে নিজের বক্তব্যও রেখে ফেলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীকে পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে মুকুল বলেছেন, “ওখানে (সন্দেশখালিতে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। শুধু নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বাড়ি-ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের খাওয়ার সংস্থান নেই। চিকিৎসা করতে যেতে ভয় পাচ্ছে। গ্রামের উপর আবার হামলা হবে বলে আশঙ্কা করছে। এই অবস্থায় একটা গ্রাম…নন্দীগ্রামের মতো একটা জায়গা তৈরি করে….।”

মুকুলের বক্তব্য, নন্দীগ্রামের মতো একটা জায়গা তৈরি করা হয়েছে তার কারণ, ” হাটগাছিয়া যে অঞ্চল পঞ্চায়েত, তাতে ১৬ টা বুথ আছে। ১৬ টা বুথের মধ্যে ১২ টা বুথে তৃণমূল হেরে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঙ্কার দিয়ে বলছেন তাই ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব, ওই জায়গায় জমি পুনরুদ্ধারের জন্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্ররোচনায় তৃণমূল কংগ্রেস এই হামলা করিয়েছে।”

মঙ্গলবার রাজ্য রাজনীতিতে আবার ‘খুনি মুখ্যমন্ত্রী’কে ফিরিয়েও এনেছেন মুকুল। মুকুলের দাবি, সন্দেশখালিতে মানুষ খুন করে মমতায় এখন ‘খুনি মুখ্যমন্ত্রী।’ ইঙ্গিতটাও পরিষ্কার। মমতার সন্দেশখালি যেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নন্দীগ্রাম। নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে চরম প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেবকে।

মুকুলের দাবি সন্দেশখালিতে কোনও রাজনৈতিক সংঘর্ষ হয়ই নি। এক পক্ষ একতরফা গুলি করে অন্য পক্ষকে হত্যা করেছে। “ন্যাজাত বর্ডার এরিয়া। একটু এগোলেই বাংলাদেশ। বাংলাদেশ থেকে ওখানে অস্ত্র ঢোকে। বাংলাদেশে লোক পালিয়ে যায়। বাংলাদেশের খুনি, তাই এনআইএ তদন্ত চাই। ওখানে কোনো সংঘর্ষ হয়নি।”

সোমবারই মমতার সঙ্গে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কেন এত সদ্ভাব তার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন মুকুল। তাই নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম – সন্দেশখালিকে মিলিয়ে দিয়ে রাজ্যের দুই মুখ্যমন্ত্রীকেই ‘খুনি’ হিসাবে চিহ্নিত করতে চেয়েছেন মুকুল।