প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর: “পরাজয় নিশ্চিত জেনে কোনও ভোট করাচ্ছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেটা ছাত্র সংসদ নির্বাচন হোক বা পুরসভা ভোট। যে ভোটই হবে, আগামিদিনে সেই ভোটেই হারবে তৃণমূল।” বারাসতে আদালতে হাজিরা দিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে সাংবাদিকদের একথা বলেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা মুকুল রায়।

এদিন তিনি আরও বলেন, ”যেভাবে পুলিশ দিয়ে বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার করছে, তাতে এই সরকার ৩৪ থেকে ২০ তে নেমেছে। আগামিদিনে ২১১ থেকে ৩০-এ নামবে। তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত।”

এদিকে আর্থিক প্রতারণা মামলায় মুকুল রায়কে সোমবারই তলব করে কলকাতা পুলিশ। সোমবার বিকেল চারটের মধ্যে বেহালা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের অফিসে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেইমত থানায় যান তিনি। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে।

জোনাল রেলওয়ে ইউজার কনসালটেটিভ কমিটির সদস্যপদ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মুকুল ঘনিষ্ঠ বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি বাবান ঘোষের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পরের বছর মে মাস পর্যন্ত সন্তু গঙ্গোপাধ্যায় নামে এক ব্যবসায়ীর থেকে ধাপে ধাপে ৭০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন বাবান। পরে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে সরশুনা থানায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মুকুল রায়, বাবান ঘোষ, সাদ্দাম আনসারি সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেন তিনি। ইতিমধ্যেই পুলিশ বাবানকে গ্রেফতার করেছে।

বাবানের গ্রেফতারের পরই আইনি রক্ষাকবচ চাইতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মুকুল। আগাম জামিনের আর্জি জানান তিনি বিচারপতি শহিদুল্লা মুন্সির ডিভিশন বেঞ্চে। মুকুলের হয়ে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুকুলকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেন বিচারপতি শহিদুল্লা মুন্সি ও বিচারপতি শুভাশিস দাশগুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ।গত শুক্রবারই এই মামলায় মুকুল রায়ের গ্রেফতারির ওপর স্থগিতাদেশ বাড়ায় হাইকোর্ট। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।