দেবময় ঘোষ, কলকাতা: বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত ভাব কেন? যুক্তি দিয়েছেন মুকুল রায়। মুকুলের যুক্তি, ‘বুদ্ধদেববাবু মৃতদেহ কলকাতায় আনতে বাধা দেননি। মেট্রো চ্যানেলে ২৬ দিন বসতে বুদ্ধবাবু বাধা দেননি। সিঙ্গুরে হাই রোডে (জাতীয় সড়ক) বসতে বাধা দেননি। সেই কৃতজ্ঞতা দেখাবার জন্যই তো মমতাদি বারবার বুদ্ধর কাছে যান।’

একসময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে খুনি মুখ্যমন্ত্রী বলতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তবে কয়েক বছর আগে বুদ্ধদেব বাবু সম্পর্কে নিজের মতামত বদলেছেন মমতা৷ প্রকাশ্যেই বলেছেন, বুদ্ধবাবু সৎ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব৷ ওর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়৷ অসুস্থ বুদ্ধবাবুর চিকিৎসা ঠিকমতো হয় কিনা, তাও নিয়মিত খবর নেন মমতা৷ প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রীর পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে বেশ কয়েকবার পা রেখেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী৷ বুদ্ধবাবু এবং তাঁর স্ত্রীর জন্য উপহারও পাঠিয়েছেন৷ অনেকেই কটাক্ষ করে বলেন, এটিও মমতার ভোট রাজনীতির অঙ্গ৷

সোমবার, মুকুলের কথায় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেববাবুর প্রসঙ্গ উঠে আসে সন্দেশখালির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে। মুকুলের বক্তব্য, মমতা নিজের অতীত ভুলে গেলেন। দু’জন মানুষ খুন হয়েছে। তাঁদের পরিবার চাইছে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে দাহ করবে। মুখ্যমন্ত্রীর কি অধিকার আছে, তাকে আটকানোর।

মুকুলের স্বীকারোক্তি, স্বীকার করতে অসুবিধা নেই, আমরা যখন তৃণমূল করতাম, গ্রাম বাংলার দূর দূরান্ত থেকে মৃতদেহ কলকাতায় নিয়ে আসতাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজ জবাব দিতে হবে, কেন তিনি মৃতদেহ কলকাতায় আনতে দিলেন না। নিহতের পরিবারের কাছেও জবাব দিতে হবে।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রশ্রয়েই মৃতদেহ রাজনীতি করতে পেরেছিলেন মমতা, একথা সাফ জানানোর পর মুকুলের কন্ঠেও হতাশা ধরা পড়েছে। মৃতদেহ আটকে গণতান্ত্রিক অধিকারকে আটকেছেন মমতা, জানিয়েছেন মুকুল।
বাম জমানায়, মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন স্বয়ং মমতা। সেই আমলে মমতার সবথেকে ভরসার ব্যক্তি মুকুলই গ্রাম থেকে শহরে মৃতদেহ বয়ে আনার দায়িত্ব নিতেন। মুকুলের বক্তব্য, বুদ্ধ বাবুর কল্যাণে সফল হয়েছিলেন মমতা। কিন্তু, বুদ্ধ বাবুর ছেড়ে যাওয়া মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে আজ মমতা মুকুলকে ব্যর্থ করে দিলেন। সন্দেশখালিতে নিহত ২ বিজেপি কর্মীর দেহ ৬ নম্বর মুরলিধর সেন লেনে রবিবার নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। একপ্রকার নিজের ব্যর্থতাই মানলেন মুকুল৷