নয়াদিল্লি: ভোট দিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। বহুদিন ধরেই মুকুল দিল্লির ভোটার। বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিলেন মুকুল রায়। ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তোপ দাগলেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকারকে। বাংলায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই বলে কড়া সমালোচনা করলেন রাজ্য সরকারের।

রাজধানীতে দাঁড়িয়েই বাংলার তৃণমূল সরকারকে একহাত নিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। এরপরই আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে বাংলার সরকারকে তুলোধনা করে মুকুলের তোপ, ‘বাংলায় গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। দিল্লিতেও তো আপ, বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে একাধিক ইস্যুতে দ্বন্দ্ব রয়েছে। তবে এখানে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়। এখানে ভোট দিতে কেউ কাউকে বাধা দেয় না বা বাধা দেওয়ার চেষ্টাও করে না। সবাই অবাধে তাঁদের রাজনৈতিক মত প্রকাশ করতে পারেন। বাংলায় শাসকদলের অত্যাচারে অবাধ ভোট হয় না।’

একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার মানুষের আশা পূরণে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন মুকুল রায়। এই ইস্যুতে বামেদেরও বিঁধে মুকুল বলেন, ‘২০১১ সালে অনেক আশা নিয়ে তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছিলেন রাজ্যবাসী। কিন্তু তৃণমূল মানুষের আশা পূরণে ব্যর্থ। বাম আমলের অত্যাচারকেও ছাপিয়ে গিয়েছে তৃণমূল।’ পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূলের আমলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ তলানিতে এসে ঠেকেছে বলেও তোপ দেগেছেন মুকুল।

এরই পাশাপাশি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে কেন্দ্রের বিরোধিতা করায় তৃণমূল সরকারকে অগণতান্ত্রিক বলেও মন্তব্য করেছেন মুকুল রায়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংসদের দুই কক্ষে পাশ হওয়ার পরই রাষ্ট্রপতি সাক্ষর করেন সংশোধিত নাগরিকত্ব বিলে। সেই বিল আইন হওয়া মানে সব রাজ্যকেই তা মানতে হবে। ভারতীয় সংবিধানের এটাই নিয়ম। কিন্তু সংবিধানকে মান্যতা না দিয়েই সেই আইন না মানার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে বিরোধীরা। কোনও রাজ্য সরকারই এটা করতে পারে না।’

প্রসঙ্গত, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ক্রমেই কেন্দ্র-বিরোধিতায় সুর আরও চড়া হচ্ছে। একের পর এক রাজ্যে সিএএ বিরোধী বিল পাশ হচ্ছে। কেরল, রাজস্থান, পঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গের পর মধ্যপ্রদেশ সরকারও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রস্তাব পাশ করিয়েছে রাজ্য বিধানসভায়। এমনকী দেশের মধ্যে প্রথম রাজ্য হিসেবে নাগরিকত্ব আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রকিম কোর্টে মামলা করেছে বামশাসিত কেরল।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV