কলকাতা: ফের বোমা ফাটালেন মুকুল রায়৷ শাসকদলের দুর্নীতির নিয়ে সারাসরি মমতাকে আক্রমণ করে নতুন তথ্য ফাঁস করলেন তিনি৷ বিশ্ব বাংলা বিতর্কে মমতা-অভিষেকের বিরুদ্ধে ফাটালেন বেশ কয়েকটি বোমা৷ অভিষেকের হলফনামা দেখিয়ে মুকুল রায় বলেন, “আমি কিছুই বলছি না। সব বলছে তথ্য৷ অভিষেক নিজেই বলেছেন তিনি কিছু করেননি। যা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতিতে করেছেন।”

বিজেপির পার্টি অফিসে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে শনিবার মুকুল রায় বলেন, ‘‘মা-মাটি-মানুষে’র ট্রেড মার্কও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে৷ জাগো বাংলারও ট্রেড মার্কও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে৷ তৃণমূলের ঘাস-ফুলের প্রতীক চিহ্নের ট্রেড মার্ক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের আওতায় রেখেন৷ জাগো বাংলা, মা, মাটি, মানুষের ট্রেডমার্ক অভিষেকের। সব সার্টিফিকেটে ৩০ বি, হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটের ঠিকানা দেওয়া আছে।’’

এদিনও ফের ফোনে আঁড়ি পাতা নিয়েও অভিযোগ তোলেন তিনি৷ বিশ্ব বাংলা বিতর্ক আরও একবার উস্কে দিয়ে অভিষেকের হলফনামা দেখিয়ে মুকুল রায় বলেন, “আমি কিছুই বলছি না। অভিষেক নিজেই বলেছেন তিনি কিছু করেননি। যা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতিতে করেছেন।” মন্তব্য করেন, ‘‘অভিষেক তাঁর নিজের হলফনামায় জানিয়েছেন, তিনি নিজে কিছু করেননি। সবকিছু করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক যা করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদন নিয়েই করেছেন।’’

বিশ্ব বাংলা বিতর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ তুলে ধরে নিজের বক্তব্যের সমর্থনে এ দিনও বেশ কিছু কাগজ দেখান মুকুল রায়। যার মধ্যে ‘জাগো বাংলা’-র ট্রেডমার্কের জন্য অভিষেকের আবেদন পত্র রয়েছে বলে দাবি করেন মুকুল৷ বলেন, ‘‘রানি রাসমনি রোডের সভায় আমি বলেছিলাম জাগো বাংলা ট্রেডমার্ক অভিষেকের। সঙ্গে কাগজ এনে দেখিয়েছিলাম। আমি যদি সেদিনের সভায় ওসব না বলতাম তাহলে তড়িঘড়ি ১৩ তারিখ চিঠি দিয়ে অভিষেক আবেদন প্রত্যাহার করতেন না।’’

তৃণমূলের প্রতীক নিয়েও এদিন অভিষেককে খোঁচা দেন তিনি৷ মন্তব্য করেন, ‘‘লক্ষ লক্ষ মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করে। তাঁদের জানা উচিত, তাঁদের প্রাণের যে প্রতীক জোড়াফুল, তার উপর দখলদারির চেষ্টা হয়েছে। তৃণমূলের প্রতীকেরও মালিকানা অভিষেকের।’’

মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি আক্রমণ করে বিজেপির মুকুলের দাবি, ‘‘সরকার বলছে আমি যা বলেছি, সব অসৎ উদ্দেশ্যে। তাই যদি হয়, তাহলে অসৎ উদ্দেশ্যে হওয়া এই সব কাজগুলি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে হয়েছে। অভিষেকের নিজের হলফনামায় এমন দাবি করা হয়েছে। হিম্মত থাকলে আবার কোর্টে যাবেন। কিন্তু আমি মুখ খুললাম আদালতের নির্দেশ ভঙ্গ না করেই।’’