তিমিরকান্তি পতি (বাঁকুড়া): ‘গ্রামে এসে দেখলাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য কতটা নৃশংস হতে পারেন, কতোদূর যেতে পারেন এবং এর জন্য একটা চৌদ্দ বছরের শিশু গুলি করা হয়েছে।’ গত শনিবার পাত্রসায়রের কাঁকরডাঙ্গা মোড়ে গুলি চালনার ঘটনায় মঙ্গলবার আহত তিন জনের বাড়ি স্থানীয় কাঁটাবন গ্রামে এসে এভাবেই চাঁছাছোলা ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এদিন তিনি সরাসরি এই গ্রামে পৌঁছে গুলিকাণ্ডে আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুকুল রায় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পে বাড়ি থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, পানীয় জল নেই বলে দাবী করেন। ‘রোম যখন জ্বলছে নিরো তখন সেতার বাজাচ্ছিলেন, মমতা ব্যানার্জ্জী এখন সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বলে তিনি দাবী করেন। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটে বিষ্ণুপুরে দলীয় প্রার্থীকে ‘অন্যায়ভাবে’ এলাকায় ঢুকতে না দিয়ে প্রচার করতে দেওয়া হয়নি। তবুও ইন্দাস, পাত্রসায়র সহ পুরো লোকসভার মানুষ নরেন্দ্র মোদীকে দেখে দু’হাত ভরে সমর্থন জানিয়েছেন।

তৃণমূল নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করে তিনি বলেন, তৃণমূলের একজন নেতা জনসংযোগ যাত্রা করে জনসমর্থণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। আর তিনিই এলাকার মানুষের মুখে জয় শ্রী রাম শুনে সহ্য করতে না পেরে পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে দলের পাত্রসায়র-২ মণ্ডল সভাপতি তমাল কান্তি গুঁইকে পুলিশের গ্রেফতারের বিরোধীতা করে বলেন, গুলি চালনায় দোষীদের গ্রেফতার ও তমালের মুক্তি না হলে বিজেপি বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে।

মুকুল রায়ের এদিনের সফর সঙ্গী বিজেপি নেত্রী ও সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এর স্ত্রী সুজাতা খাঁ বলেন, গতকাল আমি হাসপাতালে গিয়ে গুলিবিদ্ধ কর্মীদের হাতে যৎসামান্য সাহায্য তুলে দিয়েছি। এদিন মুকুল রায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে অর্থ সাহায্য করেছেন। আহতরা সুচিকিৎসার জন্য কলকাতায় যেতে চাইলে সেখানেও তারা খরচ বহন করবেন দাবী করে সুজাতা খাঁ আরও বলেন, ওনাদের পাশে আমরা সবসময় আছি। গ্রামের মানুষের দাবীকে মান্যতা দিয়ে তিনি বলেন, গুলি চালনায় যারা যুক্ত তাদের শাস্তি চাই। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সুজাতা খাঁ বলেন, ‘উনি সুশাসন দিতে পারলে গদিতে থাকুন, না হলে নবান্নের চৌদ্দ তলা ছেড়ে কালীঘাটের বাসভবনে দরজা বন্ধ করে বসে থাকুন’।