নয়াদিল্লি: অবশেষে বিজেপিতে বড়সড় পদ পেলেন মুকুল রায়। দলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি করা হল বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদকে। মুকুল রায় ছাড়াও বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি পদে নিযুক্ত হলেন ছত্তীসগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রমন সিং, রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা রঘুবর দাস-সহ মোট ১২ জন।

পড়ুন আরও- রবিবার দলের বিধায়কদের জরুরি বৈঠকে ডাকলেন অভিষেক

জল্পনাটা চলছিল বহুদিন ধরেই। এমনকী মুকুল রায় নিজেও ফের জাতীয়স্তরের রাজনীতিতে নিজের জায়গা ফিরে পেতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেও রাজ্য বিজেপির সঙ্গে মুকুলের দূরত্ব বাড়ছিল।

মুকুল রায় নিজে মুখে একথা স্বীকার না করলেও রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে একথা প্রায়ই শোনা যাচ্ছিল। দুঁদে এই রাজনীতিবিদ বরাবরই মোদী-শাহদের আস্থাভাজন। অমিত শাহ নিজে পছন্দ করেন মুকুল রায়কে।

পড়ুন আরও- গতি ঘণ্টায় ১৮০ কিমি, দেশের মাটিতে প্রথমবার ছুটবে RRTS ট্রেন

মাসখানেক আগে দিল্লিতে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শাহ, জেপি নাড্ডারা। দিল্লিতে থাকলেও সেই বৈঠকে যোগ দেননি মুকুল রায়। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কলকাতায় ফিরে আসেন মুকুল। সেই সময় মুকুল রায়ের দল ছাড়া নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়।

এমনকী তিনি ফের তাঁর পুরনো দল তৃণমূলে ফিরতে পারেন বলেও চাউর হয় বিভিন্ন মহলে। যদিও সেই সব জল্পনায় জল ঢালেন মুকুল রায় নিজেই।

মুকুলের মতো তুখোড় এই রাজনীতিবিদকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার ব্যাপারে তৎপরতা চলছিল। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, মুকুলকে ফের জাতীয়স্তরের রাজনীতিতে ফেরাতে অনেকটাই ভূমিকা নেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। মুকুলের ব্যাপারে তাঁর সুপারিশও এক্ষেত্রে অনেকটাই কাজে লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মোদী-শাহদের পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকেই মুকুলের নাম থাকায় সেই কাজে বিশেষ বেগ পেতে হয়নি বিজয়বর্গীয়কে।

সামনের বছরেই রাজ্যে বিধানসভা ভোট। মুকুল রায়কে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে এনে এবার নির্বাচনী প্রচারেও তাঁকে পুরোদস্তুর কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। মুকুল নিজেই দলে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা চাইছিলেন বলে শোনা যায়। এবার তাঁর সেই মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হওয়ায় তিনি নতুন করে ফের সক্রিয় ভূমিকা নেবেন বলেই ধারণা মোদী-শাহ-নাড্ডাদের।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।