কলকাতা: নদিয়ার হাঁসখালির বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানালেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। আগামী ৩ রা জানুয়ারি মামলার শুনানির সম্ভাবনা।

চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি নদিয়ার হাঁসখালির বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস এলাকার একটি সরস্বতী পূজোর উদ্বোধন করতে যান। সেই সময় তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তৃণমূল বিধায়ক খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় বিজেপি নেতা মুকুল রায় এবং নদিয়ার বিজেপি সাংগঠনিক সভাপতি জগন্নাথ সরকারের। দু’জনের নামেই থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়।

এর পরেই বিজেপি নেতা মুকুল রায় আগাম জামিনের আবেদন চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু সিআইডি তদন্ত চলাকালীন নদিয়ার রানাঘাট নিম্ন আদালতে সিআইডি একটি চার্জশিট দেয়। সেই চার্জশিটে সিআইডি জানিয়েছিল বিজেপি নেতা মুকুল রায় ও বিজেপির স্থানীয় নেতা জগন্নাথ সরকারকে খুনের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকায় রাখা হয়েছে।

রানাঘাট নিম্ন আদালতে সিআইডি পুনরায় তদন্তের আবেদন জানায়। তবে নিম্ন আদালত সিআইডি-র আবেদন খারিজ করে দেয়।

এরপরেই রানাঘাট জেলা আদালতে নিহত তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রী রূপালি বিশ্বাস খুনের উপযুক্ত তদন্ত চেয়ে ফের আবেদন করেন। রানাঘাট জেলা আদালত তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের ঘটনায় পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেয়।

হাঁসখালির তৃণমূল বিধায়ক খুনে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই ফের নতুন করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মুকুল।

নিম্ন আদালতে সিআইডির আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। তাই কলকাতা হাইকোর্টে এর আগে বিজেপি নেতা মুকুল রায় যে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন সেই আবেদন প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ডিভিশন বেঞ্চ। সেই নির্দেশ মোতাবেক মুকুল রায় আগাম জামিনের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু শেষে সিআইডিকেই পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। আর তাই নতুন করে আগাম জামিনের আবেদন জানালেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়।