স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মুকুল রায় চিন্তন বৈঠকে ভুল স্বীকার করে নিয়েছেন। বীরভূমের তৃনমূল কংগ্রেস নেতা মনিরুল ইসলামকে বিজেপিতে নিয়ে তিনি ভুল করেছিলেন তা দলের চিন্তন বৈঠকে সকলের সামনেই স্বীকার করে নিয়েছেন মুকুল, এমনই খবর পাওয়া গিয়েছে বিজেপি সূত্রে।

কয়েকমাস আগেই বীরভূম তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে চ্যালেঞ্জ করতে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে মনিরুল ইসলামকে নিয়ে এসেছিলেন মুকুল। দিল্লিতে রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গী মনিরুলকে হাত তুলে দেন। কিন্তু পার্টিতে যে মনিরুল অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চরম বিদ্রোহ হবে তা তখনও টের পাওয়া যায়নি। বীরভূম পার্টির ভিতরে অসন্তোষের আগুন টের পেয়ে মনিরুল নিজেই বিজেপি ছাড়তে চান। তবে, সেই যাত্রায় তাঁকে আটকে দেন মুকুল। যা শোনা যাচ্ছে, মনিরুল অন্তর্ভুক্তি যে ভুল ছিল তা স্বীকার করে দেয় ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছেন মুকুল।

বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মণিরুল ইসলামের পার্টিতে যোগদানের বিষয়টিকে নিয়ে রাজ্য বিজেপি আড়াআড়ি বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। যা খবর, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের কড়া প্রশ্নের মুখে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ শিবির সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, মণিরুল দলে আসতে পারে, তাঁদের কাছে শুধু এই টুকুই খবর ছিল। কিন্তু মুকুল রায় যে এত তাড়াতাড়ি মনিরুলকে দলে টেনে নেবেন সে ব্যাপারে কিছুই জানত না রাজ্য সভাপতি। দিল্লিতে মনিরুল বিজেপিতে যোগ দেন। সে ব্যাপারে দিলীপ ঘোষ শিবিরের কাছে আগাম কোনও খবর ছিলই না – তা সঙ্ঘকে জানানো হয়েছিল।

সঙ্ঘের কাছেও মনিরুল নিয়ে বিভিন্ন খবর ছিল। বীরভূমে বেশ কয়েকটি হিন্দু নিগ্রহের ঘটনায় মনিরুল যে সরাসরি যুক্ত ছিল তা জানতে পারে সঙ্ঘ। এমনটি সঙ্ঘ নিধনের পথেও যে মনিরুল হেঁটেছিল, তাও পরিষ্কার হয়ে যায়।

মনিরুলকে দলে নেওয়ার ফলে বীরভূম থেকে প্রচুর অভিযোগ সঙ্ঘের দফতরে জমা হতে থাকে। সঙ্ঘ সূত্রে খবর, দক্ষিণবঙ্গের শীর্ষ প্রচারকরা রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে (পড়ুন, রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক সংগঠন সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে) প্রশ্ন করেন। মনিরুল ইসলামকে দলে নেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়। সঙ্ঘের দক্ষিণবঙ্গের এক শীর্ষ প্রচারক জিজ্ঞাসা করেছিলেন। রাজ্য সভাপতির তরফে আমাদের বলা হয়েছে তারা অনুমান করেছিলেন মণিরুল ইসলাম যোগদান করবেন। কিন্তু, দিল্লিতে যোগদান করবেন তা তাঁরা জানতেন না।

এরপরই পরিষ্কার হয়ে যায়, মনিরুলের ব্যাপারে বলতে গেলে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুকুল রায় এবং রাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় শিবির। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মতামত নেওয়া হয়নি।