স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: শুরু করেছিলেন চলতি বছরের ১০ নভেম্বর৷ সেদিন কলকাতার রানি রাসমনি রোডে সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে৷

অভিষেককে তোপ দাগার সেই ধারা বজায় রাখলেন মুকুল রায়৷ মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় বিজেপির এক সভায় যোগ দিতে গিয়ে তিনি অভিষেকের বিরুদ্ধে ফের সমালোচনার বাণ ছোড়েন৷ তবে এবার আর তিনি অভিষেকের নাম করেননি৷ বরং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে যুবরাজ বলে কটাক্ষ করেছেন৷

আরও পড়ুন: সাহস থাকলে বলো! মুকুলকে নজিরবিহীন আক্রমণ কেষ্টার

এদিন বাঁকুড়ার দুর্লভপুরে বক্তৃতা করতে গিয়ে বাঁকুড়ায় বালি, কয়লা ও পাথর পাচারের অভিযোগ তোলেন৷ পুরুলিয়া থেকে এই পাচার সংগঠিত হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন৷ আর বাঁকুড়ায় বালি-কয়লা-পাথর পাচারের মূল কমান্ডার ‘একজন চক্রবর্তী’ বলে উল্লেখ করেন৷ তাঁর কথায়, এই পাচারচক্রের ব্রিগেডিয়ার বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার৷ জেলা থেকে তিন কোটি টাকা করে পাঠানো হয়৷ শুশুনিয়া পাহাড়ের কাছে একটি গেস্ট হাউসে লেনদেন হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন৷ তার পরই বলেন, ‘‘যুবরাজকে সন্তুষ্ট করে কেউ বাঁচতে পারবে না৷’’

মুকুল রায় এদিন যেমন অভিষেকের নাম করেননি, তেমনই পাচারচক্রের কমান্ডারের নামও করেননি৷ তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি, মুকুল আসলে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তীর কথা বলতে চেয়েছেন৷ কারণ, মুকুল যখন একজন চক্রবর্তী বলছেন, তখন সভায় উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মুখে শোনা গিয়েছে অরূপ চক্রবর্তীর নাম৷

আরও পড়ুন: দিল্লিতে এবার মুকুল-অভিষেক লড়াই

অন্যদিকে এদিন মুকুল রায় শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেও এক হাত নেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এমন এক শিক্ষামন্ত্রী রাজ্যে জুটেছেন, যে শুধু কলেজে রাজনীতি করতে প্রশয় দিচ্ছেন। যে কখনও অধ্যাপনা করেননি তাঁকে কলেজের অধ্যক্ষ বানাচ্ছেন৷ রাজ্যের শিক্ষার হাল বেহাল বানিয়ে ছেড়েছেন এই শিক্ষামন্ত্রী৷’’

এদিন বাঁকুড়ায় বিজেপির সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়৷ দিলীপবাবু রাজ্যে বিজেপির উত্থান নিয়ে বক্তব্য রাখেন৷ সবং বিধানসভার উপ-নির্বাচনে বিজেপির ভোটবৃদ্ধির উদাহরণও তিনি দেন৷ বলেন, ‘‘আজ প্রতি বুথে আমরা কমিটি করতে পেরেছি৷ এজেন্ট দিতে পেরেছি। বাকিটা দেখা যাবে আগামী নির্বাচন গুলিতে৷’’

আরও পড়ুন: মুকুল-অভিষেকের সামনে সংঘর্ষে জড়াল তৃণমূল

তবে লকেট চট্টোপাধ্যায় সরাসরি কর্মীদের উজ্জীবিত করেছেন৷ শাসক দলের হাতে আক্রান্ত হলে কর্মীরা যাতে ভেঙে না পড়েন সেই কথা বলেছেন৷ বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রীর বক্তব্য, ‘‘এবার আমরাও মারব৷ এমন মার মারব যেন শাসক দলের লোকেরা পুলিশে অভিযোগ করে৷ আমরা অভিযোগ করলে তো ওরা নেয় না৷ তাই আমরা মারব, ওরা এবার অভিযোগ করবে৷’’