কলকাতা: করোনা আবহেই বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটি তৈরি হল। একইসঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিকস্তরেও বেশ কিছু বদলের ঘোষণা বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের। সোমবারের ঘোষণায় কোনও পদেই নাম নেই মুকুল রায়ের। তালিকায় নেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ও। চন্দ্র বসুরও নাম বাদ সহ-সভাপতির পদ থেকে। বদলে দায়িত্ব বাড়ল অর্জুন, অগ্নিমিত্রা, সব্যসাচীদের।

সোমবার দলের রাজ্য কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রাজ্য কমিটির নতুন পদাধিকারীদের নাম ঘোষণার পাশাপাশি মোর্চা সংগঠনগুলির সভাপতির নামও ঘোষণা করেন দিলীপ ঘোষ। রাজ্য বিজেপিতে সাংগঠনিকস্তরে রদবদল হল।

দলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে লকেট চট্টোপাধ্যায়কে। এরই পাশাপাশি বিজেপির মহিলা মোর্চার দায়িত্ব পেলেন অগ্নিমিত্রা পাল। সহ সভাপতি হলেন অর্জুন সিংহ, ভারতী ঘোষ। বিজেপির রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হয়েছেন বিধাননগর কর্পোরেশনের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত।

উল্লেখযোগ্যভাবে পদাধিকারীদের তালিকায় নাম নেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। তবে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায় এখনও বিজেপিতেই আছেন বলে জানিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

সহ-সভাপতির পদ থেকে নাম বাদ গিয়েছে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর পরিবারের সদস্য চন্দ্র বসুর। এর আগে জম্মু কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলই হোক বা সিএএ। একাধিকবার দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলে গেরুয়া শিবিরকে বেশ বেকায়দায় ফেলেছিলেন চন্দ্র বসু। সম্ভবত সেই কারণেই চন্দ্র বসুকে আর দলের প্রথম সারিতে রাখা হল না বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

এরই পাশাপাশি মুকুল রায়ের নাম দলের কোনও পদেই ঘোষণা করেননি দিলীপ ঘোষ। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় খানকিটা হলেও কোণঠাসা বিজেপির মুকুল-অনুগামীরা। দলের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে ঠান্ডা-যুদ্ধ চললেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভরসা রয়েছে একদা তৃণমূলের সেকেন্ড কম্যান্ডের উপর।

মোদী-শাহরা বেশ ভরসা রাখেন মুকুল রায়ের উপর। মুকুল নিজেও সেটা বিলক্ষণ জানেন। সেই কারণেই রাজ্যস্তরের কিছু নেতার সঙ্গে ঠান্ডা-যুদ্ধ চললেও কখনও তা প্রকাশ্যে আনেননি মুকুল রায়।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প