নয়াদিল্লি: টিম ইন্ডিয়ার দল নির্বাচন নিয়ে বারে বারে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে এমএসকে প্রসাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নির্বাচক কমিটিকে৷ সময়ে সময়ে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে নির্বাচকদের সম্মিলিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতাকে৷ বিশ্বকাপের দল নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য প্রসাদদের বেছে নেওয়া দল নিয়ে এখনও চলছে গুঞ্জন৷

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো টিম ইন্ডিয়ার প্রক্তন অধিনায়ক প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচকদের সকলকে খুশি করে চলার প্রবণতা নিয়ে৷ তবে নির্বাচকদের বিরুদ্ধে এযাবৎ সব থেকে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন সুনীল গাভাসকর৷ নিজের কলামে তিনি নির্বাচকদের কোচ ও ক্যাপ্টেনের হাতের পুতুল বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত করেছেন৷ বর্তমান নির্বাচক কমিটির দূরদৃষ্টির অভাব রয়েছে বলেও মত প্রকাশ করেন একাধিক বিশেষজ্ঞ৷

আরও পড়ুন: পাকিস্তান সফরের আগে নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চয়তা চাইলেন ভারত অধিনায়ক

সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এপ্রসঙ্গে পালটা জবাব দিলেন নির্বাচক প্রধান এমএসকে প্রসাদ৷ তিনি স্পষ্ট জানান যে, তাঁদের দূরদৃষ্টি না থাকলে হার্দিক-বুমরাহর মতো ক্রিকেটারদের টেস্টে পাওয়া যেত না৷ রীতিমতো নিজেদের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে সাফাই দিয়েছেন প্রসাদ৷

টিম ইন্ডিয়ার নির্বাচক প্রধানের কথায়, ‘এই নির্বাচক কমিটির যদি দূরদৃষ্টির অভাব থাকত কীভাবে জসপ্রীত বুমরা টেস্টে সফল হয় এবং টেস্টে আইসিসি’র এক নম্বর বোলারে পরিণত হয়৷ ওকে তো প্রাথমিকভাবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের উপযোগী বলে মনে করা হত৷ যদি আমাদের দৃরদৃষ্টি না থাকত, তবে হার্দিক পান্ডিয়া, যাকে টি-২০ ক্রিকেটার হিসাবে ভাবা হতো, কীভাবে তিন ফর্ম্যাটেই অল-রাউন্ডার হিসাবে জাতীয় দলে প্রতিষ্ঠিত হতে পারত৷’

আরও পড়ুন: কোহলিকে সমর্থন সৌরভের

প্রসাদ আরও বলেন যে, ‘দলে দু’জন প্রতিষ্ঠিত স্পিনার (রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা) থাকা সত্ত্বেও আমরা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে কুলদীপ যাদব ও যুবেন্দ্র চাহালের মতো রিস্ট স্পিনারের আমদানি করেছিলাম৷ ঋষভ পন্তকে তো টেস্টের জন্য ভাবা কখনই সম্ভব ছিল না৷ অথচ ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় ও প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ব্যাটে ও উইকেটের পিছনে গ্লাভস হাতে দীর্ঘতম ফর্ম্যাটেও সফল হতে পারে৷’

প্রসাদ উদাহরণ হিসাবে মায়াঙ্ক আগরওয়াল, হনুমা বিহারী, খলিল আহমেদ, নভদীপ সাইনিদের উঠে আসার প্রসঙ্গও উত্থাপণ করেন৷ পাশাপাশি তিনি দাবি করেন যে, দুই কোচ রবি শাস্ত্রী ও রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচকরাই টিম ইন্ডিয়ার বিদেশ সফরের পাশাপাশি ভারতীয়-এ দলেরও সিরিজ আয়োজন করার পরিকল্পনা করে৷ যার সুফল পাওয়া যাচ্ছে এতদিনে৷’