ম্যাঞ্চেস্টার: সেমিফাইনালের মঞ্চে যা যা নাটকীয় উপাদান থাকা বাঞ্ছনীয়, বুধের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মজুত ছিল সবকিছুই। তবে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ১৮ রানে হেরে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হল ১৩০ কোটির দেশকে। কিন্তু ২৪০ রান তাড়া করতে নেমে ৯২ রানে ৬ উইকেট খুঁইয়েও ধোনি-জাদেজার মহাকাব্যিক লড়াই বহুদিন মনে রাখবেন দেশের ক্রিকেট অনুরাগীরা।

৪৮.২ ওভার পর্যন্ত ধোনি যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, আবর্তিত হচ্ছিল ভারতের আশা-নিরাশা। পরের বলে স্কোয়্যার লেগ থেকে গাপ্তিলের স্বপ্নের থ্রো উইকেট ভাঙার সাথে সাথেই ভেঙে যায় তিল-তিল করে গড়ে তোলা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। রান আউট হয়ে ধোনি যখন প্যাভিলিয়নমুখো, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তখন শ্মশানের নিস্তব্ধতা। কিন্তু ম্যাচের পর সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। যে ডেলিভারিতে ধোনি রান আউট হয়ে ফিরলেন, সেটি কি নো-বল ছিল? উঠছে প্রশ্ন।

কারণ সেমিফাইনাল হারের পর সোশাল মিডিয়ায় এক অনুরাগীর পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ৪৯ তম ওভারে লকি ফার্গুসনের তৃতীয় ডেলিভারির সময় ৩০ গজ বৃত্তের বাইরে ছিলেন ছ’জন ফিল্ডার। কিন্তু তৃতীয় পাওয়ার-প্লে’তে নিয়মানুযায়ী কেবল পাঁচজন ফিল্ডার দাঁড়াতে পারেন বৃত্তের বাইরে। ইনসেটে ফিল্ডিং সংক্রান্ত একটি ভিডিও গ্রাফিক্স অন্তত জানান দিচ্ছে সেকথাই। স্বাভাবিকভাবেই ভিডিওটি ভাইরাল হতেই আম্প্যারিংয়ের মান নিয়ে সুর চড়িয়েছেন অনুরাগীরা।

তাদের কথায় বলটি নো হলে পরের ডেলিভারিতে নিশ্চিত ফ্রি-হিট আদায় করে নিত ভারতীয় দল। ম্যাচ জয়ের জন্য অতিরিক্ত একটি বল খেলার সুযোগ পেত তারা। এমনকি ঘটনাটি সত্যিই যদি ঘটে থাকে তাহলে দু’টি রান সংগ্রহের জন্য কি এত উদ্যত হতেন ধোনি? প্রশ্ন আছে, তবে সমীচীন উত্তর কিন্তু নেই। আর থেকেও বিশেষ কিছু লাভ নেই। যা হওয়ার তা হয়েই গিয়েছে।

২০১৯ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ভারতের এই হার গত ছ’বছরে ৫ টি আইসিসি ইভেন্টের নক-আউট কিংবা ফাইনালে হার। ২০১৪ টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনাল, ২০১৫ বিশ্বকাপ সেমি, ২০১৬ টি২০ বিশ্বকাপ সেমি, ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালের পর ২০১৯ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। এরপর ‘মেন ইন ব্লু’কে ব্যঙ্গ করে কেউ ‘চোকার্স’ বললে কিন্তু অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।