নয়াদিল্লি: এতদিন ভর্তুকিযুক্ত খাবারের সুবিধা ভোগ করতেন সাংসদরা। সেই দিন ফুরিয়ে গেল বৃহস্পতিবার থেকেই। সংসদ ভবনের ভিতর খাবারের দাম শুনে খানিক থমকে যেতেন সাধারণ মানুষ। কারণ যেখানে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের অগ্নিমূল্যে হাত পুড়ছে সাধারণ মানুষের। ঠিক তখনই বরাবরের মত দিল্লির সংসদ ভবনে ছবিটা যেন অন্য পৃথিবীর। ভর্তুকিযুক্ত খাবারের দেদার সুবিধা ভোগ করতেন সাংসদরা।

এবারে সেই ছবিই বদলাতে চলেছে। সাংসদদের এই ‘ভর্তুকি’ দিতে কেন্দ্রের প্রতি বছর খরচ হত ১৭ কোটি টাকারও বেশি। এই তথ্য সামনে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংসদের স্পিকার ওম বিড়লা। এই অন্যায্য ভর্তুকি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সর্ব সম্মতিতে সংসদে তা পাসও হয়ে যায়।

এর ফলে সংসদ ভবনের ক্যান্টিনে আর ভর্তুকিতে খাওয়াদাওয়া করতে পারবেন না সাংসদরা। সর্বসম্মতিতেই সাংসদরা তাঁদের এই সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে, সরকারের রাজকোষে বেঁচে যাবে ১৭ কোটি টাকা।

সংসদ ভবন সূত্রের খবর, লোকসভার বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটির বৈঠকে ভর্তুকি উঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন স্পিকার ওম বিড়লা। এ ব্যাপারে তিনি অসন্তোষও প্রকাশ করেন। তখনই সাংসদরা সর্বসম্মতিতে মেনে নেন স্পিকারের প্রস্তাব।

ফলে, এখন সংসদের ক্যান্টিনে চিকেন কারি, ফিশ কারি আর মটন কারির দাম পড়বে যথাক্রমে ৫০, ৪০ এবং ৪৫ টাকায়। চিকেন কাটলেটরে প্রতি প্লেট মিলবে ৪১ টাকায়। তন্দুরি চিকেন ৬০ টাকা, ধোসা ১২ টাকা আর কফি ৫ টাকায়। হায়দরাবাদি চিকেন বিরিয়ানির দাম পড়বে ৬৫ টাকা।

বাজারের দামের চেয়ে ৮০ শতাংশ সস্তায় সংসদ ভবনের ক্যন্টিনে খাবার মিলছে বলে ২০১৫ সাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে, যখন অর্থাভাবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প দীর্ঘ দিন ধরে আটকে থাকছে, তখন কেন ভর্তুকিতে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে সংসদ ভবনের ক্যান্টিনে? সেখানে তো আমজনতা ঢুকতে পারেন না। যান শুধুই সাংসদ বা তাঁদের পরিচিতরা। তাঁদের তো অর্থের অভাব থাকার কথা নয়? তবে এমন অন্যায্য সুবিধা কেন ভোগ ক্রবেন সাংসদরা? এরপরেই এই ভর্তুকি তুলে দেওয়ার প্রসঙ্গ সামনে আনেন স্পিকার। এই বিলের কথা উত্থাপিত করতেই তাতে সায় জানান অধিকাংশ সাংসদই। ফলে সহজেই এই বিষয়টি পাস হয়ে যায়।

দেখে নেওয়া যাক ভর্তুকিহীন খাবারের দাম এখন ঠিক কেমন লোকসভায়-
মাখন পাউরুটি ৬ টাকা, চাপাটি- ২ টাকা, চিকেন কারি -৫০ টাকা, চিকেন কাটলেট- ৪১ টাকা, তন্দুরি চিকেন-৬০ টাকা, কফি- ৫ টাকা, ফিশ কারি- ৪০ টাকা, ভাত- ৭ টাকা, স্যুপ -১৪ টাকা

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।