ভোপাল: কষ্টে নুইয়ে পড়ছিলেন৷ এত ওজন নিয়ে চলা আর সম্ভব হচ্ছিল না তাঁর পক্ষে৷ কিন্তু উত্তেজিত জনতার মাথায় তখন প্রতিশোধের ভূত৷ কারণ তাঁদের চোখে গুরুতর অপরাধ করেছেন ওই মহিলা৷ তাই তার সাজা তো তাঁকে পেতেই হবে৷

গল্পের শুরু একটা বিয়ে ঘিরে৷ ভালবেসে ভিন জাতের ছেলেকে বিয়ে করেছিলেন মহিলা৷ তারপর থেকে নির্যাতনের শুরু৷ মধ্যপ্রদেশের ঝাবুয়া জেলার দেবীগড়ের ঘটনায় স্তম্ভিত সোশ্যাল মিডিয়া৷ নির্যাতন মাত্রা ছাড়াল শনিবার৷ ধানখেতের মধ্যে সরু রাস্তা দিয়ে ওই মহিলাকে হাঁটতে বাধ্য করা হল৷ তবে তাঁর স্বামীকে কাঁধে নিয়ে৷

স্বাভাবিকভাবেই কিছুদূর চলার পর অত্যধিক ওজন নেওয়ার ফলে ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে আসে তাঁর৷ তবে তাতে দয়া হয়নি তাঁকে ঘিরে থাকা অগুণতি গ্রামবাসীর৷

কার্যত ধাক্কা মারতে মারতে ওই মহিলাকে চলতে বাধ্য করা হয়৷ পা থামলেই জুটছিল চড়, লাথি৷ কড়া রোদ মাথায় নিয়ে স্বামীকে কাঁধে বসিয়ে পথ চলতে থাকেন নির্যাতিতা৷ পা কাঁপছিল, তবু থামতে পারেননি৷ নইলে জুটবে বেধড়ক মার৷ মারের ভয়েই কোনও রকমে পথ পেরোন ওই মহিলা৷

বছর কুড়ির ওই মহিলা যখন কোনও রকমে মাঠের ওপর দিয়ে হাঁটছিলেন, তখন তাঁর চারপাশে থাকা জনতা সে কী উল্লাস৷ রীতিমতো নাচতে নাচতে মহিলাকে ঘিরে হাঁটছিলেন তাঁরা৷

এখানেই নির্যাতনের শেষ নয়৷ রীতিমত মোবাইলে সেই দৃশ্যের রেকর্ডিং করা হচ্ছিল৷ অনেকে আবার হাতের লাঠি দিয়ে বেশ কিছুটা সময় পরপর ওই মহিলাকে মারছিলেনও৷

গ্রামটি থেকে রাজ্যের প্রধান শহর ভোপালের দূরত্ব ৩৪০ কিমি৷ সেই গ্রামেই এক মহিলার এই অবস্থায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই৷ ৩৩ সেকেণ্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে৷ মুহূর্তেই সেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ সংবাদসংস্থা এএনআই এই ভিডিওটি নিয়ে একটি ট্যুইটও করেছে৷

পরে গোটা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে অভিযোগ জানানো হয় স্থানীয় থানায়৷ ঝাবুয়ার পুলিশ সুপার বিনীত জৈন জানান, এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷