তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: পঞ্চায়েতের কাজ খতিয়ে দেখতে বাঁকুড়া-২ ব্লকের পুরন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েত পরিদর্শণ করলেন, সংশ্লিষ্ট দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা। কাজকর্ম খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তিনি কথা বলেন প্রধান সহ অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে। পরে স্থানীয় কাঞ্চনপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শণ করেন। সেখানে গিয়ে চিকিৎসক রোগী সহ ঐ স্কুলের ছাত্র, ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন।

কাঞ্চনপুর গ্রাম পঞ্চায়তের প্রধান কালী বাউড়ির কথায়, হঠাৎ করেই মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা এসেছিলেন। তাঁকে একশো দিনের কাজ প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি বাকি থাকার প্রসঙ্গ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পঞ্চায়েত কার্যালয়ে অপরিসর জায়গার কারণে সমস্যায় পড়তে হয়। মূলত এই দু’টি বিষয় তাঁকে জানানো হয়েছে। তিনি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

২০১১ সালে রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষা, স্বাস্থ্যে অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু, কেন্দ্রের বঞ্চনার কারণে সবসময় এরাজ্যকে সমস্যায় পড়তে হয়। এই ধরণের পরিদর্শণ তিনি সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন করেন দাবি করে বলেন, এতে মানুষের উৎসাহ বাড়ে। একশো দিনের কাজ প্রকল্পে মজুরি বাকি থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন।

মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরার এই ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’কে ‘লোক দেখানো’ বলে দাবি করেছে বিজেপি। দলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্র বলেন, চলতি বছরে পৌরসভা ভোট, পরে ২০২১ সালে বিধানসভার ভোট রয়েছে। তাই তিনি এসব করে খুব কাজ করছি বলে দেখাতে চাইছেন। আদতে সব লোক দেখানো। একই সঙ্গে ঐ পঞ্চায়েত পরিদর্শনের নামে কোনও গোপন ‘চুক্তি’ হয়ে থাকতে পারেও বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে একশো দিনের কাজ প্রকল্পের মজুরি বাকি থাকা প্রসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, এই প্রকল্পের টাকা ‘ভাগ বাটোয়ার কারণে দেরি হচ্ছে’। আর সেই দেরির পিছনে কেন্দ্রকে দায়ি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।