সুজয় পাল, কলকাতা: অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের মতোই কি অবস্থা হতে চলেছে সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের? এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না সাংসদ ঘনিষ্ঠেরা৷

লেক মলের কাছে পথ দুর্ঘটনায় মডেল সোনিকা সিংহ চৌহানের মৃত্যুর ঘটনায় ‘খুনের’ মামলা দায়ের হয়েছিল অভিনেতা বিক্রমের বিরুদ্ধে৷ সেই মামলায় আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এই টলিউড অভিনেতা৷ মামলার শুনানির দিনও ধার্য করেছিল আদালত৷ কিন্তু তার আগেই বিক্রমকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ৷ তদন্তকারীদের দাবি ছিল, বিক্রম তদন্তে সাহায্য করছিলেন না৷ তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে বারবার হাজিরার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন৷ বিক্রম কার্যত পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন বলেও পুলিশ অভিযোগ করেছিল৷ হাইকোর্টে আগাম জামিনের শুনানির দিন ধার্য হওয়া সত্ত্বেও বিক্রমকে গ্রেফতার করে পুলিশ বেআইনি বলে দাবি করেন তার আইনজীবীরা৷ যদিও তা ধোপে টেকেনি৷ সেই সূত্রেই এক্ষেত্রেও ঋতব্রতের ঘনিষ্ঠমহলও একই আশঙ্কা করছে৷

কী সেই আশঙ্কা? ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের মামলায় ঋতব্রতও বালুরঘাট আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন৷ ৩১ অক্টোবর সেই মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত৷ তারমধ্যেই তাঁকে সিআইডি গ্রেফতার করতে পারে সেই আশঙ্কায় ভুগছে ঋতব্রত শিবির৷ কারণ, বিক্রমের মতো এক্ষেত্রে ঋতব্রতও তদন্তকারী সংস্থাকে সাহায্য করেননি বলে অভিযোগ৷ এই মামলায় ঋতব্রতকে দু’বার ভবানীভবনে ডেকে পাঠিয়েছিল সিআইডি৷ কিন্তু তিনি দু’বারই হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন৷ ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত আছেন বলে ১৫ দিন সময়ও চেয়েছেন৷ কিন্তু তাঁকে সময় দেয়নি সিআইডি৷

ঋতব্রতের বিরুদ্ধে যখন ওই মামলা দায়ের হয়, তখন পুজোর ছুটিতে আদালত বন্ধ ছিল৷ তাই গ্রেফতারির ভয়ে ভবানীভবনে হাজিরা এড়িয়ে ১৫ দিন সময় চাওয়া আসলে আগাম জামিনের আবেদন করার কৌশল ছিল বলে মনে করছে সিআইডি৷ তাই তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে যে কোনও সময়ই ঋতব্রতকে গ্রেফতার করতে পারে সিআইডি৷ আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতার বক্তব্য, ‘‘কোনও অভিযুক্ত আগাম জামিনের আবেদন করলে সেই মামলার শুনানির আগে তদন্তকারী সংস্থা গ্রেফতার করতেই পারে৷ এক্ষেত্রে আইনত কোনও বাধা নেই৷ তবে যেহেতু আবেদন করার পরে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকে তাই সেই সময় সচরাচর কাউকে গ্রেফতার করা হয় না৷’’

সেক্ষেত্রে বিক্রম যদি প্রথম ব্যতিক্রম হন, ঋতব্রত কি দ্বিতীয়?