ভোপাল: দল বদলে ফাঁপড়ে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলার খাতা খুলল মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সরকার। আর তাই নতুন দলে যোগ দিয়ে এবার পাল্টা আইনি পরামর্শ নিতে শুরু করেছেন সিন্ধিয়াও।

সদ্য কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন জ্য়োতিরাদিত্য সিন্ধায়া। শুধু তিনিই নন। আরও ২১ বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে কংগ্রেস ছেড়েছেন জ্যোতিরাদিত্য। একসঙ্গে ২২ বিধায়ক কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিতেই মধ্যপ্রদেশের কমলনাথ সরকারে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর কংগ্রেসের এই সরকার পতনের নেপথ্যে রয়েছেন জ্যোতিরাদিত্য। এবার তাই তাঁকে প্যাঁচে ফেলতে কোমর বেঁধে নেমেছে কমলনাথ সরকার।

জ্যোতিরাদিত্যের বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলার খাতা খুলেছে মধ্যপ্রদেশের বর্তমান কংগ্রেস সরকার। ২০১৪ সালে জ্যোতিরাদিত্যর বিরুদ্ধে একটি জমি বিক্রির ক্ষেত্রে নথি জাল করার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি জমি বিক্রির অভিযোগ ছিল জ্যোতিরাদিত্যের বিরুদ্ধে।

তবে ২০১৮ সালের পর থেকে সেই সংক্রান্ত অভিযোগ আসা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে চলতি বছরে বিজেপিতে যএাগ দেওয়ার আগে পর্যন্ত পুরোন সেই মামলা নিয়ে কোনও বিপাকেই পড়তে হয়নি জ্যোতিরাদিত্যকে।

বিপত্তির সূত্রপাত তাঁর শিবির বদলের পর থেকেই। পুরোন মামলা চালু করে জ্যোতিরাদিত্যকে কাবু করতে মাঠে নেমেছে কংগ্রেস। জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালে জমি জালিয়াতি মামলায় জ্যোতিরাদিত্য-সহ তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। যদিও সেই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে শুরু থেকেই দাবি করেছেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। এবার পুরোন সেই মামলা ফের চালু করায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছেন জ্যোতিরাদিত্যের ঘনিষ্ঠরা।

জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার ঘনিষ্ঠ এক নেতা জানান, রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিতেই কংগ্রেস পুরোন মামলা তুলে জ্যোতিরাদিত্যকে অস্বস্তিতে ফেলতে চাইছে। একইভাবে বিজেপিও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগে সরব হয়েছে।

মধ্যপ্রদেশে এখন ঘোর সংকটে কমলনাথের সরকার। জ্যোতিরাদিত্য-সহ ২২ বিধায়ক দল ছাড়ায় মহাসঙ্কট মধ্যপ্রদেশে। রীতিমতো কুর্সি হারানোর ভয়ে কাঁপছেন মুখ্যমন্ত্রী কমনলাথ। যে কোনও মুহূর্তে সরকার পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আগামী ১৬ মার্চ মধ্যপ্রদেশে আস্থাভোট। ২২৮ আসনের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় টিকে থাকতে পর্যাপ্ত বিধায়কের সমর্থন চাই কমলনাথের। উল্টোদিকে আস্থাভোটের পর তাঁরাই সরকার গড়বেন বলে দাবি করেছেন রাজ্য বিজেপির নেতারা।