শংকর দাস, বালুরঘাট: সংসদে আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকে আবেদন করেও ২০১৭ সালের বন্যায় ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়নি কেন্দ্র। অগত্যা রাজ্য সরকার নিজেদের তহবিল থেকেই এই ক্ষতিপূরণের টাকা বিতরণ করছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের চেক বিলি অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করলেন বালুরঘাটের সাংসদ অর্পিতা ঘোষ।

বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে ২০১৭-র ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়দের হাতে প্রশাসনের তরফে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হয়। প্রথম অবস্থায় এদিন প্রায় তিরিশ হাজার পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা প্রদানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ অর্পিতা ঘোষ সহ অনেকেই।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে জেলার বালুরঘাট গঙ্গারামপুর কুমারগঞ্জ সহ অধিকাংশ এলাকা বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বালুরঘাটের চকভৃগু সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সরকারি ত্রাণ ও ত্রিপল নিয়ে মারামারির মত ঘটনাও ঘটেছিল। বানভাসি অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিল বালুরঘাট তথা দক্ষিণ দিনাজপুরের সমস্ত ক্লাব ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন।

দুর্গতদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল পুলিশও। জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ জলবন্দী পরিবারগুলিকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিয়েছিল। এমনও দেখা গিয়েছিল যে সংস্কৃতির শহরের মানুষ নিজেরাই যে যার সাধ্য মত খাদ্য বস্ত্র নিয়ে দুর্গতদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বন্যার জলের স্রোতে লক্ষাধিক বাড়ি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

দেরিতে হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে বাড়ি তৈরির টাকা তুলে দিল প্রশাসন। বালুরঘাট বিডিও অফিসের এই অনুষ্ঠানে সাংসদ অর্পিতা ঘোষের অভিযোগ, বন্যার পর সংসদে তিনি নিজে রাজ্যের বানভাসি পরিবারগুলিকে সাহায্যের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদনে আজও কেন্দ্র সরকার কোনরূপ ক্ষতিপূরণ দেয়নি। কেন্দ্র না দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্য সরকার অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

যদিও তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন জেলা বিজেপির সভাপতি শুভেন্দু সরকার। তিনি দাবি করেন শুধু মুখে বললে হবে না। সত্যিই যদি তা হয় তবে তৃণমূল সাংসদ এই বিষয়ে শ্বেতপত্র দিক। কেন্দ্রের দেওয়া সাহায্য ও প্রকল্পগুলির নাম রাজ্য সরকার পালটে দিয়ে মানুষকে ভুল বোঝাতে চাইছে বলেও তিনি পালটা অভিযোগ করেছেন।