সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : আবারও এক সঙ্গীত শিল্পীর গান গেল ‘চুরি’। দুঃখ পেলেন গায়িকা। তবে এবার কোনও ভিন রাজ্যের শিল্পী নয় , বাংলার গায়িকার গান সৌজন্য না দিয়েই দিব্যি গাইলেন বাংলারই গায়িকা। কিছুটা অবাক , অনেকটা খারাপ লাগায় ভরা ভাষায় সেই অভিযোগ জানালেন বিখ্যাত গায়িকা মৌসুমি ভৌমিক। তাঁর কোন গান নিয়ে বিতর্ক? ‘আমি শুনেছি সেদিন’। কার বিরুদ্ধে মৌসুমি ভৌমিকের এমন অভিযোগ? গায়িকা ইমন চক্রবর্তী। মৌসুমি ভৌমিকের ছোট্ট দাবী, একটু সৌজন্যেবোধ দেখাতে পারতেন জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত গায়িকা।

সম্প্রতি ‘বড় লোকের বিটিলো’ গানটির একটি লাইন নেওয়ার জন্য চরম বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন র‍্যাপ গায়ক বাদশা। গায়ক রতন কাহারের সেই গান বহু বার বহু জায়গায় ব্যবহৃত হলেও এবারেই বিতর্ক চরমে পৌছায়। শেষে বাদশা নিজে আসল গায়ককে সাহায্য করে আগুনে জল দেন। মৌসুমি ভৌমিক আবার এমন একজন গায়িকা যিনি এসব নিয়ে কোনওদিন ভাবেননি। সব সময়েই তাঁর গান বলেছে প্রতিবাদের কথা, লড়াইয়ের কথা। একটু আলাদারকম বললে ভুল হবে না। প্রচারের আলোর বাইরে থাকতে পছন্দ করেন। সেই গায়িকাও শেষে বাধ্য হলেন সামনে আসতে, কারণ নিজের গান বেমালুম ‘চুরি’ হয়ে গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন তিনি। ঘটনা হল সেই গান ‘কভার’ করেছেন জাতীয় পুরস্কার গায়িকা ইমন চক্রবর্তী। আবার সেই গানটি চালানো হয়েছে বাংলার একটি অতি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমে যেখানে বলা হয়েছে ‘করোনা মোকাবিলার গান’। ক্ষুব্ধ এবং দুঃখিত গায়িকা জানিয়েছেন, ‘আমি শুনেছি। আমার টিভি নেই, কিন্তু কাল সকাল থেকে আমাকে বন্ধুরা জানাচ্ছেন ইমন চক্রবর্তী সারাক্ষণ ‘আমি শুনেছি সেদিন’ গাইছেন। ‘করোনাকে ভয় কোরো না, গানের সুরে করোনা মোকাবিলার বার্তা।’ আবার শুনেছি গানের শেষে নাকি ভিক্টোরিয়ার ছবি আর ‘সৌজন্যে কলকাতা পুলিশ’ বলে একটা লেখা আসছে। আমার নাম অবশ্য কোত্থাও নেই। আর অবশ্যই কেউ আমাকে এইসব জানিয়ে করেনি। তা, We Shall Overcome ও তো দিন রাত্তির বাজছে, আমি আশপাশ থেকে শুনতে পাই, সেখানেও নিশ্চয় কারো নাম থাকে না বা কাউকে বলে গাওয়া হয় না? দু’ একজন আত্মীয় আপ্লুত হয়ে ফোন করেছেন, ইমন তোর গানটা গাইছে রে! এরকম ঘটনা ঘটলে তাও আমি বাড়িতে একটু পাত্তা পাই। নাহলে আমি যে কী করি, কেনই বা করি, এত কাল হলো, বোঝাতেই পারলাম না। এবার সত্যিই আমার credibility বেড়ে গেল।’

একইসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘এই গানটা অনেকটা একটা কলা গাছের মতন; পাতা থেকে কান্ড, ফুল থেকে ফল, মাথা থেকে পা, বাম থেকে ডান, হেন অংশ নেই যে ব্যবহার করা যায় না। আমি তো ত্রাসের সঙ্গে অপেক্ষা করে আছি কবে বিজেপিও তুমি তুমি তুমি বলে গেয়ে উঠবে, কারণ এমোড়ে সিপিএম, ওমোড়ে তৃণমূল আর দূরে সাইডে কতিপয় নকশাল, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, apolitical, anarchist, new age–এসব তো হয়েই চলে। এখন ইমনের কল্যাণে আমাদের জানা হয়ে গেল যে, আমার এই গান করোনার মুখোমুখি দাঁড়াবার সাহসও যোগাতে পারে। এর পর কিন্তু যাই বলুন, করোনায় মরে গেলেও আর দুঃখ থাকবে না। কিছু তো রেখে গেলাম।’

এই প্রসঙ্গে গায়িকা ইমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর আপ্তসহায়ক বলেন বিষয়টি গায়িকাকে জানানো হবে। তবে গায়িকার পক্ষ থেকে অনেক চেষ্টা করার পরেও কোনও সদুত্তর মেলেনি।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।