দেবযানী সরকার, কলকাতা: প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি থাকাকালীন অধীর চৌধুরী যখন তৃণমূল বিরোধিতার জোরালো আওয়াজ তুলেছিলেন, তখন তিনিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ চেয়েছিলেন৷ দিল্লিতে গিয়ে দলের সভাপতি রাহুল গান্ধীর কাছেও তৃণমূলের সঙ্গে জোটের সুবিধার কথা তুলে ধরেছিলেন৷

পঞ্চায়েত ভোটের পর তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়েই বোর্ড গঠন করেছিলেন মালদহের জেলা সভানেত্রী তথা সাংসদ মৌসম বেনজির নূর৷ এমনকী, কয়েকদিন আগেও তৃণমূলের পক্ষে অনড় ছিলেন তিনি৷

আরও পড়ুন: ক্ষমতাশালীরা নেহরুকে অবজ্ঞা করলেও গণতন্ত্রের স্বার্থে তাঁকে মর্যাদা দেবই : সোনিয়া

এআইসিসি ও প্রদেশ নেতৃত্বের সামনে পড়ে সেই মৌসমই মঙ্গলবার ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন৷ দলীয় নেতৃত্বকে মৌসম জানালেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তিনি জোট চাইছেন না৷

উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোকে মঙ্গলবার বৈঠকে ডেকেছিল এআইসিসি৷ বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের এআইসিসির পর্যবেক্ষক গৌরব গগৈ ছাড়া প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র, আব্দুল মান্নান, প্রদীপ ভট্টাচার্য, দীপা দাশমুন্সি, শঙ্কর মালাকার-সহ কংগ্রেসের তাবড় নেতারা ছিলেন৷

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কেস করল CNN

ওই বৈঠকে গৌরব গগৈ সমস্ত জেলার প্রতিনিধিদের কাছে সংগঠন এবং জোট নিয়ে তাঁদের মতামত জানতে চান৷ জানা গিয়েছে, সেখানে সবাই একযোগে তৃণমূলের সঙ্গে জোটে অনীহা প্রকাশ করেন৷ উল্লেখযোগ্যভাবে মৌসম নূরও বলেন, তিনি তৃণমূলের সঙ্গে জোট চান না৷ জানা গিয়েছে, সেইসময় মৌসমের দিকে বৈঠকে উপস্থিত সকলের নজর ঘুরে যায়৷

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে সিপিএমের জোটবার্তাকে যখন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র স্বাগত জানিয়েছিলেন, তখন সংবাদমাধ্যমের কাছে মৌসমের ব্যাখ্যা ছিল, ‘‘সারা দেশেই বিজেপির বিরুদ্ধে মহাজোট হচ্ছে। আমরা চাই এই রাজ্যে বিজেপিকে আটকাতে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের জোট হোক।’’

আরও পড়ুন: জন্মদিনে মরনোত্তর দেহ ও চক্ষুদানের অঙ্গীকার তৃণমূলনেতার

এদিন মৌসম বৈঠকে বলেন, জোট নিয়ে যা সিদ্ধান্ত হাইকম্যান্ড নেবে৷ তাঁকে যেখানে টিকিট দেওয়া হবে তিনি সেখান থেকেই লড়বেন৷ সেই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, সংবাদমাধ্যম তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখা করছে৷ ভোট মিটে যাওয়ার পর তিনি এব্যাপারে মুখ খুলবেন৷

আরও পড়ুন: পুলিশের সামনেই ফাটল চকোলেট বোমা, ভলান্টিয়ারের পিছনে দোদমা