স্টাফ রিপোরটার, কলকাতা: নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গ৷ হোক না তা নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতে৷ তাতেই ‘নৈতিক জয়’ দেখছে বিধান ভবন৷

এতদিন কংগ্রেসের গড় বলেই পরিচিত ছিল মালদহ৷ উত্তর-দক্ষিণ, দু’টি লোকসভা কেন্দ্রই তাদের দখলে ছিল৷ এবার ভোটে ডালুবাবুর হাত ধরে দক্ষিণ মালদহে কংগ্রেসের মুখ রক্ষা হলেও অন্য আসনটি খুইয়েছে তারা৷ কিন্তু তাতে তেমন কোনও আক্ষেপ নেই প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের৷ কারণ একটাই৷ ‘বেইমান’ মৌসম হেরেছে৷

কোতোয়ালি বাড়ির সদস্য তথা গনি পরিবারের অন্যতম উত্তরসূরি তথা মালদহ উত্তর লোকসভার দু’বারের সাংসদ, ভোটের আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছিলেন। এবার প্রার্থী হয়েছিলেন তৃণমূলের টিকিটেই। কিন্তু দলবদলে তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘুরল না৷ বিজেপি প্রার্থী খগেন মুর্মুর কাছে চুরাশি হাজার ভোটে হেরেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: ভোটে এসেছে সাফল্য, মায়ের আশীর্বাদ নিলেন মোদী

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ব্যাখা, মৌসমের দল বদলের ফলে গনি পরিবারের সাবেক ভোটব্যাঙ্ক পুরোপুরি নিজের দিকে টানতে পারেননি মৌসম৷ সেই ভোট ভাগ হয়ে গিয়েছে৷ আর ভোট ভাগাভাগির ফলেই না মৌসম না তাঁর ভাই ঈশা, দুজনই পরাজিত হলেন৷ মাঝখান থেকে ফায়দা নিল বিজেপ৷

আরও পড়ুন: কাঁকিনাড়ায় খুন বিজেপি কর্মী

নিজেদের গড়ে এতবড় ধাক্কার পরও কংগ্রেস খুশি৷কারণ ‘বেইমান’ মৌসমকে হারানোর পণ করেছিল তাঁরা৷ এমনকি মালদহের জনসভায় রাহুল গান্ধীও এসে বলে গিয়েছিলেন, ‘বেইমান’ মৌসমকে শিক্ষা দিতে৷ এবার ভোটে উত্তর মালদহে জয়ী বিজেপি প্রার্থী খগেন মুর্মু পেয়েছেন ৫, ০৯,৫২৪ ভোট তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মৌসম নূর পেয়েছেন ৪,২৫,২৩৬ ভোট কংগ্রেস প্রার্থী ঈশা খান চৌধুরী পেয়েছেন, ৩,০৫,২৭০ ভোট আর বাম প্রার্থী বিশ্বনাথ ঘোষ পেয়েছেন ৫০,৪০১ ভাট৷

প্রদেশ কংগ্রেসের নেতারা বলছেন, এখানে বিজেপি জেতেনি৷ ওদের কপাল খুলেছে ভোট ভাগের ফলে৷ কারণ মৌসম কংগ্রেসে থাকলে কোতয়ালি ভবনের ভোটব্যাঙ্ক ভাগ হত না এবং বামেরাও প্রার্থী দিত না৷ ফলে উত্তর মালদহে জয় নিশ্চিত ছিল৷

বিধানভবনের এক নেতা বলেন, “ওই আসনটিতে আমরা হেরেছি ঠিকই৷ কিন্তু তাতে আমাদের কোনও দুঃখ নেই৷ আমরা খুশি৷ কারণ যিনি আমাদের সঙ্গে ভোটের মুখে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তিনিও জিততে পারেনি৷ মালদহবাসী তাঁকে যোগ্য জবাব দিয়েছেন৷ তাই মালদহ উত্তর হারলেও এটা কংগ্রেসের নৈতিক জয়৷” অতএব নিজেদের ‘নাক কাটা’ গেলেও মৌসমের ‘যাত্রাভঙ্গ’ যে তাদের সুখী করেছে সেটা ক্ষয়িষ্ণু কংগ্রেসের হাবেভাবেই স্পষ্ট৷