তেহরানঃ পারস্য উপসাগরে ইরানের কর্তৃপক্ষ ব্রিটিশ পতাকাধারী তেলের ট্যাংকার আটকের পর থেকে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম কিছুটা ওঠানামা করছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে যে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্তনীতিতে৷ কারণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পৃথিবীর এক পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়। এমনই জানাচ্ছে বিবিসি৷

পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মহল৷ হরমুজ প্রণালী কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল৷ যার মাধ্যমে পারস্য উপসাগরীয়ের দেশগুলি জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। যদি তাই হয়, তাহলে পৃথিবীর মোট তেলের মজুদের এক পঞ্চমাংশ এবং মোট প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের এক চতুর্থাংশের সাথে বিশ্বের সংযোগ ছিন্ন হয়ে যাবে।

এখন এমনও আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইরান হয়তো তাদের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত হরমুজ প্রণালীই বন্ধ করে দেবে। বিবিসি সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার রিপোর্টে এমনই বলা হয়েছে৷ হরমুজ চ্যানেল দিয়েই আরব দুনিয়া ও ইরানের তেল রফতানি হয়৷ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করা হলে বিশ্ব জুড়ে তেলের বাজারে নেমে আসবে অস্থিতিশীলতা৷ ইরান আগেই হুমকি দিয়েছে, একটাও গুলি করা হলে তার ফল হবে মারাত্মক৷

ইরানের এমন কঠোর অবস্থানের জেরে অন্যতম জলপথ হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত বিভিন্ন সংস্থা৷ এদিকে ইরানের দাবি, আফ্রিকা লাগোয়া জিব্রাল্টার প্রণালীতে তাদের একটি জাহাজ আটক করে ব্রিটেন৷ ফলে সাম্প্রতিক উপসাগরীয় সংকটে আমেরিকার পাশাপাশি ব্রিটেনেও ক্রমে জড়িয়ে পড়েছে৷

পারস্য উপসাগরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর জাহাজে হামলায় জড়িত ইরানি কমান্ডোরা৷ এই অভিযোগের ভিত্তিতে মার্কিন রণতরী পাঠানো হয় সেখানে৷ অন্যদিকে ইরানও তাদের নৌ সেনা মোতায়েন করে৷ ধংস করে মার্কিন ড্রোন৷ তারপর থেকে পরিস্থিতি ক্রমে জটিলতর হয়ে চলেছে৷ বিবিসি জানাচ্ছে, এমন অবস্থায় তেলের যোগান বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্বব্যাপী পেট্রোলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল৷

উত্তেজনার মাঝেই তেহরান হুমকি দিয়েছে- হরমুজ দিয়ে তেল রফতানি বন্ধ করলে খোদ মার্কিন মিত্র দেশগুলির বিপদের সম্ভাবনা বেশি৷ জ্বালানীর প্রবল প্রভাব পড়বে সেই সব দেশে৷ এর পরেও আমেরিকার বন্ধু দেশ জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে তেহরান সফর করেন৷ মঙ্গলবার তিনি টোকিওতে জানান, কোনও অবস্থাতেই উপসাগরে মার্কিন সেনা জোট বনাম ইরানের দ্বন্দ্বে একজনও জাপানি সেনা থাকবে না৷