মুম্বই: মায়েরা রান্না করেন আর বাবারা অফিস যান। এই কনসেপ্ট বদলেছে অনেকদিন। এখন মায়েরা চুলও বাঁধেন, বিমানও ওড়ান। ককপিট থেকে শুরু করে দেশের সীমান্তে, সর্বত্রই মহিলারা মাথা উঁচু করে কাজ করছেন। তাই শিশুদের মধ্যেও যেন সেই জেন্ডার ইকুয়ালিটির বার্তা পৌঁছে যায়, তাই ছবি বদলে যাচ্ছে টেক্সটবুকে। রান্নাঘরে মায়েদের সবজি কাটার ছবি আর দেখা যাবে না।

ভাবনা-চিন্তা বদলানোর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহারাষ্ট্র। স্কুলের টেক্সট বইতে বদলে ফেলা হচ্ছে পুরনো সব ছবি। সমাজ বদলে গিয়েছে, তাই পুরনো ছবিগুলি আর প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন না শিক্ষাবিদরা। আগে ওইসব বইয়ের ছবিতে দেখা যেত, রান্নাঘরে সবজি কাটছে মা আর পেপার পড়ছে বাবা। কিন্তু বর্তমানে এই ছবি প্রাত্যহিক জীবনে আর দেখা যায় না। এখন মায়েরাও চাকরিজীবী। অনেক সময় ঘরের কাজ ভাগ করে নেন স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই। তাই বদলে ফেলা হবে সেসব ছবি।

ক্লাস টু-এর বইতেই এই বার্তা দেওয়া হবে, যাতে ছোট থেকেই শিশুদের মনে বদলে যাওয়ার সমাজের ছবিটাই ফুটে ওঠে।

২০ নম্বর পাতায় দেখা যাবে মহিলা ডাক্তার ও মহিলা পুলিশ অফিসারের ছবি। আগেই এই পেশাগুলি বোঝাতে পুরুষের ছবিই ব্যবহার করা হত। আর মহিলাদের কেবল সবজি বিক্রেতা হিসেবে দেখানো হত। এছাড়া পুরনো বইতে একটি ছবি থাকত, যেখানে একজন মহিলা ও একজন পুরুষকে দেখা যেত। মহিলার সামনে লেখা থাকত I Work In Home আর পুরুষের ছবির সামনে লেখা থাকত I Work In Office.

নতুন বইয়ের একটি চ্যাপ্টারে থাকবে ‘নিনা’স ড্রিম’ নামে একটি গল্প। যেখানে একটি মেয়ে মাছের মত সাঁতার কাটার আর পাখির মত আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখছে। তার মা বলছে, মেয়েরা এসব করে না। এরপর সেই নিনার সঙ্গে দেখা হয় এক মহিলা পাইলটের। তখন নিনা তার মা’কে বলে ‘দেখ মেয়েরাও উড়তে পারে।’

এছাড়া বাড়িতে মহিলা ও পুরুষের কীভাবে কাজ ভাগ করে নেওয়া উচিৎ, সেটাও লেখা আছে বইতে। ৫২ নম্বর পাতায় দেখা যাচ্ছে একজন মহিলা সবজি ধুচ্ছেন স্বামীর সঙ্গে। আবার ৩২ নম্বর পাতায় দেখা যাচ্ছে জামাকাপড় আয়রন করছেন পুরুষ।

এভাবেই সমাজ বদলানোর বার্তা দিচ্ছে মহারাষ্ট্র।