হুগলি: ভিন রাজ্যে মারা গিয়েছেন সন্তান৷ কিন্তু টাকার অভাবে দেহ নিয়ে আসতে পারছে না পরিবার৷ তাই বাধ্য হয়ে সাহায্যের জন্য যেতে হচ্ছে প্রশাসনের দরজায়৷ কিন্তু ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও কোনও সুরাহা হয়নি৷ মৃত ব্যক্তির নাম পবিত্র মণ্ডল (৩৬)৷ তিনি হুগলির গুপ্তীপাড়ার বলাগড় গ্রামের বেলডাঙা এলাকার বাসিন্দা৷

তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পবিত্র বাবু কেরলের গান্ধীনগরে একটি হোটেলে কাজ করতেন৷ গত শুক্রবার তাঁর মায়ের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছিলেন৷ কিন্তু সেইদিনও তাঁর মাকে তিনি তাঁর শরীর খারাপের বিষয়ে কিছু বলেনি৷ এরপরই পরের দিন অর্থাৎ শনিবার হোটেল থেকে তাঁর বাড়িতে ফোন আসে৷ জানানো হয় তিনি হার্ট ফেল করে মারা গিয়েছেন৷

আরও পড়ুন : মৃত্যুর পরেও নিরুপম সেনকে ছাড়ল না সিঙ্গুর প্রসঙ্গ

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসে প্রথম সপ্তাহে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন৷ বেলডাঙার বাড়িতে তাঁর মা সন্ধ্যা মণ্ডল একা থাকতেন৷ সন্ধ্যা দেবী দিনমজুরি করতেন৷ তাঁর একমাত্র রোজগারের ভরসা ছিল পবিত্র বাবু৷ তাই তাঁর মৃত্যুর ছয় দিন পরেও দেহ সৎকার করতে পারছে না বৃদ্ধা সন্ধ্যা দেবী৷ হোটেল কর্তৃপক্ষও নিজেদের উদ্যোগে মৃতদেহ পাঠায়নি৷

সন্ধ্যা দেবীর অভিযোগ, ছেলে পবিত্রর মৃতদেহর ছবি দেখে তাঁর মনে হয়েছে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে৷ তাই তিনি এই ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছে৷ এবং অবিলম্বে পবিত্র বাবুর মৃতদেহ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি৷

আরও পড়ুন : স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া, ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী এইমস চিকিৎসক

এই বিষয়ে বলাগড়ের বিধায়ক অসীম মাঝি বলেন, ‘আমি এই ঘটনাটির কিছুই জানতাম না৷ আগে যাচাই করা হবে৷ যদি সত্যি এই ধরণের ঘটনা ঘটে থাকে তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷’