ইংরেজবাজার: দুই নাবালক ছেলেকে ভিন্ রাজ্যে বিক্রি করে দিতে চান স্বামী। প্রতিবাদ করে জুটেছে মারধর, বাড়ি ছাড়া হতে হয়েছে মহিলাকে। নিজের ও দুই ছেলের জীবন বাঁচাতে মালদহের পুলিশ প্রশাসন ও চাইল্ড ওয়েল ফেয়ার কমিটির দ্বারস্থ হলেন মহিলা। ঘটনাই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলেও।

মালদহের মানিকচক ব্লকের ভূতনীর অজ গ্রামের মহিলা নেমাজান। বছর দশেক আগে মানিকচকের নুরপুরের এনামুদ্দিন খানের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। বর্তমানে দুই ছেলের একজন সাত ও একজন নয় বছরের। প্রথম কয়েক বছর সুখী দাম্পত্য জীবন ছিল। কিন্তু কয়েক মাস আগে থেকে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে স্বামী।

এরপরেই গোপনে দুই ছেলেকেই উত্তরপ্রদেশে বিক্রির ছক করা হয়। ওই মহিলার অভিযোগ, বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করেন তিনি। কিন্তু এরপরেও শিশু বিক্রির সিদ্ধান্ত থেকে সরেনি স্বামী। উল্টে মুখ বন্ধ করার জন্য বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। অবস্থা বেগতিক দেখে দিন কয়েক আগে দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে বাপের বাড়ি ভূতনীর গুমানী টোলায় চলে যান মহিলা। কিন্তু এরপর সেখানেই লোকজন পাঠিয়ে শাসানো হয় তাঁদের ও বাবা, মাকে। শেষ পর্যন্ত জীবন বিপন্ন বুঝে গতকাল মালদা শহরে পালিয়ে আসেন তিনি। রবীন্দ্র এভিনিউ এলাকার এক মহিলা তাঁদের আশ্রয় দেন। আজ লিখিতভাবে পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে পুরো ঘটনা জানান ওই মহিলা।

এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। আলাদা করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও চাইল্ড ওয়েল ফেয়ার কমিটি। তবে মহিলা যে অভিযোগ এনেছেন তা অত্যন্ত গুরুতর। প্রথমে তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছন, চেয়ারপার্সন চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারপার্সন চৈতালি সরকার। এর পাশাপাশি ওই শিশুদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।