স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : আলিপুর চিড়িয়াখানাতে মিলল মশার লার্ভা। মঙ্গলবার দুপুরে পুরসভার কর্মীরা এসে সংগ্রহ করে নিয়ে যান লার্ভা। এই লার্ভায় ডেঙ্গি অর্থাৎ এডিস মশার লার্ভা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুরসভার কর্মীরা। আলিপুরের পশুশালায় চারিদিকে রয়েছে জল, যা পরিস্কার। সেখানে ডেঙ্গুর লার্ভা জন্মানো অসম্ভব কিছু নয়। চিড়িয়াখানা থেকে পাওয়া মশার লার্ভা তাই চিন্তায় রেখেছে কর্তৃপক্ষকে।

সারা রাজ্য কাঁপছে ডেঙ্গু আতঙ্কে। মৃতের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। গত কয়েক বছরে মশাবাহিত রোগ রাজ্যের অন্যতম বড় সমস্যা। সেখানে কলকাতাতেও দিনে দিনে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সাধারণ মানুষের মধ্যে বেড়েছে আতঙ্কও। ডেঙ্গু আতঙ্ক এবার ছড়াল আলিপুর চিড়িয়াখানাতেও। চিড়িয়াখানার অন্দর থেকেই মিলল প্রচুর মশার লার্ভা। এদিন দুপুরেই সেই লার্ভা সংগ্রহ করে নিয়ে যান পুরসভার কর্মীরা। স্পষ্ট কিছু না জানালেও ওই লার্ভায় এডিস মশা থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা। এমন আশঙ্কাতেই ডেঙ্গি আতঙ্ক ছড়িয়েছে ঐতিহ্যবাহী পশুশালায়।

শহর জুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় এমনিতেই তৎপর হয়েছে পুরসভা। প্রত্যেক অঞ্চলেই চলছে মশার লার্ভা ধ্বংসের কাজ। সেরকমই আলিপুর চিড়িয়াখানাতেও মশার লার্ভা আছে কি না তা দেখতে এসেছিলেন কর্মীরা। সেই সময়েই তারা মশার লার্ভা খুঁজে পান। এর আগেও চিড়িয়াখানায় তাঁরা এসেছেন। তবে কোনওদিনই মশার লার্ভা পাননি। এই প্রসঙ্গে আলিপুর চিড়িয়াখানার কর্তা আশিষ সামন্ত জানিয়েছেন, “ডেঙ্গু নিয়ে আমরা যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। প্রত্যেকদিন আমাদের জল পরিস্কার করা হয়। কোথাও জল জমলে তা ফেলেও দেওয়া হয়।”

কিন্তু তা সত্ত্বেও মশার লার্ভা মিলল কিভাবে? আশিষবাবু জানিয়েছেন , “এখানে প্রচুর মানুষ প্রত্যেকদিন আসেন। বিশাল চিড়িয়াখানার অংশে কোথাও যদি কোথাও যদি একটু জল জমে গিয়ে মশার লার্ভা জন্মে যায় সেটা দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু আমরা আমাদের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।” চিড়িয়াখানার কর্তার কথায়, “ প্রত্যেক দিন জল পরিস্কার করার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে চুন দেওয়া হয় প্রত্যেক পশুর খাঁচায়। চুন দেওয়া হয় গাছের গোড়া এবং চিড়িয়াখানার প্রায় প্রত্যেক অংশে।”

তার মধ্যেও জন্ম নিয়েছে মশার লার্ভা। পুরসভার আশঙ্কা আরও চাপ বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষের উপর। পশুদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও বহু মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন প্রত্যেকদিন সেখান থেকেও রোগ ছড়াবার সম্ভাবনা প্রবল। এই চাপ থেকে দ্রুত মুক্ত হওয়ার চেষ্টায় রয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।