ঢাকা: একদিকে উগ্র ধর্মীয় প্রবক্তাদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান অন্যদিকে ধর্মীয়স্থানের আধুনিকীকরণের ৫০-৫০ ঝড়ো পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

বু়ধবার হেফাজতে ইসলাম সংগঠনের ৫০ জন নেতার বিরুদ্ধে তদন্তে নামার বার্তা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আর বৃহস্পতিবার পূর্ব নির্ধারিত সূচি মেনে একসঙ্গে ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি একযোগে আধুনিক ও সুসজ্জিত মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে সারাদেশে ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণ করা হবে। এর জন্য ব্যয় হবে ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল দেশে আধুনিক ধর্মীয় ব্যবস্থাপনা চালু করার। সেই প্রতিশ্রুতি মতো উদ্বোধন হলো মডেল মসজিদের। জানা গিয়েছে ৩০টি জেলার ৫০টি উপজেলা সদরে ৫০ টি মসজিদ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি অর্থবছরে আরও ১০০টি মসজিদ নির্মাণ শেষ হবে।

মডেল মসজিদগুলিতে ১৩টি বিশেষ সুবিধার মধ্যে হজ যাত্রীদের প্রশিক্ষণ ও পবিত্র হজ পালনের জন্য নাম নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা থাকবে। মডেল মসজিদে থাকছে, নারী ও পুরুষদের পৃথক নামাজ আদায়ের সুবিধা। এছড়াও থাকছে, প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ শৌচাগার। ইসলামিক বই বিক্রয় ও গবেষণা কেন্দ্র সহ বি়বিধ ব্যবস্থা।

প্রধানমন্ত্রী বারবার বার্তা দিয়েছেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। তিনি আগেই জানিয়েছেন দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা বজায় রাখবে সরকার।

অন্যদিকে উগ্র ধর্মীয় বার্তা ছড়ানো ও অচলাবস্থা তৈরির অভিযোগে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সংগঠনটির বিরুদ্ধে কড়া ভূমিকা নিয়েছে সরকার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের মাঝে হিংসাত্মক পরিস্থিতি কায়েম করেছিল হেফাজতে ইসলাম সহ বিভিন্ন সংগঠন। চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিস্থিতি ছিল রক্তাক্ত। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে গুলি চালায় নিরাপত্তা রক্ষীরা। হিংসাত্মক আন্দোলনের জেরে কয়েকজনের মৃত্যু হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সংগঠনটির শীর্ষ নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী ও মামুনুল হক সহ ৫০ জন নেতার ‌অবৈধ সম্পদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। হেফাজতে ইসলামের প্রথমসারির নেতাদের অনেকেই গ্রেফতার।

হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে ২০১৩ সালে ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান বিক্ষোভ বিশ্বজোড়া আলোড়ন ফেলেছিল। সরকার কড়া হাতে দমন করে। বিবিসি জানাচ্ছে, পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে হেফাজতের সখ্যতা তৈরি হয়েছিল। সম্প্রতি এতে চিড় ধরেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.