সুরাত : যেন গত বছরের ‘রিপিট টেলিকাস্ট’। করোনা যখন প্রথম ঢেউয়ে কাত করতে শুরু করেছিল ভারতকে তখন দেখা গিয়েছিল বেশ কিছু ধর্মীয় স্থান বদলে গিয়েছিল কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে। এবারে দ্বিতীয় ঢেউ আরও ভয়ংকর। আবারও সেই চিত্রের দেখা মিলল। ভাদোদরা’র একটি মসজিদ তাদের উপাসনার স্থানকে কোভিড হাসপাতালে পরিণত করেছে।

জানা গিয়েছে ওই মসজিদটি রয়েছে ভাদোদরা’র জাহাঙ্গীরপুরায়। মসজিদ কমিটি উপাসনার স্থানকে ৫০ বেডের হাসপাতালে পরিণত করেছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘হাসপাতালে শয্যা নেই। অক্সিজেন মিলছে না। পরিস্থিতি খুব খারাপ। তাই আমরা আমাদের মসজিদকে হাসপাতালে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ কর্তৃপক্ষ এও জানিয়েছে , ‘পুণ্য রমজান মাসে আমরা মানুষের সাহায্যের জন্য এই পুণ্য কাজ করছি বলে আমরা মনে করি। এর চেয়ে ভালো এই সময়ে আর কী বা হতে পারে।’

এদিকে গুজরাটে করোনা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। হাসপাতালগুলিতে বেডের অভাব দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি রাজকোটের হাসপাতালের বাইরে অ্যাম্বুলেন্স সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার চিত্র দেখা গিয়েছে। তার কিছুদিন আগে এমনই এক দৃশ্য দেখা গিয়েছিল আহমেদাবাদের একটি হাসপাতালে। সেখানে দেখা যায়, যেখানে করোনা রোগী নিয়ে পরের পর অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে রয়েছে। গত ২ সপ্তাহে ওই রাজ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এপ্রিল মাসের গোড়ার দিকে শুনানি চলাকালীন গুজরাত হাইকোর্ট হাসপাতালের বাইরে ৪০টির বেশি অ্যাম্বুলেন্স লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক ছবি তুলে ধরেছিল পরিস্থিতি বোঝানোর জন্য। রাজ্যের আর এক প্রান্তে হাসপাতালে বেড না পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান এক কোভিড রোগী এমন খবরও সামনে এসেছে। বেড ও অক্সিজেনের অভাবেই ওই রাজ্যে অধিকাংশ মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি এক আধিকারিক।

গুজরাটে হাসপাতালের মর্গের এক সূত্র একটি জাতীয় সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছিল, ‘‌আহমেদাবাদে, ১২০০ বেড যুক্ত কোভিড-১৯ হাসপাতালে ১৬ এপ্রিল মর্গ থেকে প্রায় ২০০টি দেহ বের করা হয়। সুরাতের ২টি প্রধান হাসপাতালেও একই ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ১৯০টি দেহ শ্মশানের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।’ ওই সংবাদ সংস্থাকে ওই সূত্র আরও জানিয়েছিল, ‘জামনগরের গুরু গোবিন্দ সিং হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন ২৪টি করে দেহ পাঠানো হত শ্মশানে।’‌

গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী করোনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘ কোভিড-১৯এ মৃত্যুর ক্ষেত্রে আইসিএমআরের নির্দেশ অনুসরণ করছে। সরকার রাজ্যের প্রত্যেক জেলায় মৃত্যু নিয়ে অডিট কমিটি তৈরি করেছে যাতে মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ জানা যায়। ২০২০ সালে প্রথম ওয়েভের পর, রাজ্য সরকার একটি নির্দেশ জারি করে সমস্ত কোভিড-১৯ মৃত্যুর নিরীক্ষণের নির্দেশ দেয়। নির্দেশে বলা হয়, মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসাবে যদি করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয় তবে তা কোভিড-১৯-এ মৃত্যু বলে শ্রেণীবদ্ধ হবে। এছাড়াও ভাইরাল নিউমোনিয়াতে কেউ মারা গেলে সেক্ষেত্রেও সেই মৃত্যুকে করোনায় মৃত্যু বলে সরকারি তালিকা যোগ করা হবে।’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.