দার্জিলিং: পাহাড়ের অস্ত্র কারখানার সন্ধান মেলায় মোর্চার সুপ্রিমোর বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে ইউএপিএ (অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন) মামলা দায়ের করল দার্জিলিং জেলা পুলিশ৷ এই নিয়ে বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে এই একই ধারায় তিনটি মামলা দায়ের দায়ের হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে৷ অস্ত্রকারখানার সন্ধান ও মোর্চা যোগ প্রকাশ্যে আসার পর মোর্চা সুপ্রিমোকে ধরতে আরও জোরদার অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখার বিশেষ দল৷ জানা গিয়েছে, সিআইডির ডিএসপি পদমর্যাদার এক মহিলা অফিসারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এক বিশেষ দল গুরুংয়ের গোপন ডেরায় অভিযান চালাবে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে৷ আজ, এই মর্মে সিকিম পুলিশকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির শিলিগুড়ির স্পেশাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট অজয় প্রসাদ৷

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ দল দার্জিলিংয়ের লেবংয়ে মোর্চার একটি ডেরায় অতর্কিতে হানা দেয়৷ মোর্চার ডেরায় হানা দিয়ে বড়সড় অস্ত্র কারখানার সন্ধান পায় পুলিশ৷ দার্জিলিং শহরের কাছে লেবং থেকে সাত কিমি দূরে দাওয়াপানিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল সহ বিশাল অস্ত্র তৈরির কারখানায় সিল করে দেয় পুলিশ৷ ঘটনাস্থল থেকে ৩৯৩টি জিলেটিন স্টিক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দার্জিলিঙের এসপি৷ সেখানে জিলেটিন স্টিক ব্যবহার করে আইইডি বিস্ফোরক তৈরি করা হত বলে গোয়েন্দাদের ধারণা৷ অস্ত্র কারখানার মধ্যে একটি ডাইরিও উদ্ধার হয়৷ ডায়রিতে যুব মোর্চার প্রথম শ্রেণীর বেশ কয়েকজন নেতার ফোন নম্বরও পাওয়া গিয়েছে৷ নম্বরগুলি খতিয়ে দেখার কাজ চলছে৷ পাওয়া গিয়েছে মোর্চার পতারা৷ এদিনের ঘটনায় মোর্চা কর্মী রজনী রাইসহ আরও তিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ ধৃতদের জেরা করতে এই অস্ত্রকারখানার পেছনের মাথাদের সন্ধান শুরু করেছে পুলিশ৷ পুলিশের অনুমান, পাহাড়ে ধারাবাহিক ভাবে বিস্ফোরণের পেছনে এই কারখানার লিঙ্ক থাকতে পারে৷ এই কারখানার সঙ্গে মাওবাদীদের কোনও যোগাযোগ আছে কি না তা ক্ষতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে৷

এদিনের এই বড় সাফল্যের পর দার্জিলিংয়ের নতুন পুলিশ সুপার অখিলেশ চতুর্বেদী জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে প্রাথমিক ভাবে মোর্চা যোগ প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে৷ পাহাড়ে লাগাতার বিস্ফোরণের ঘটনা এর আগেও দুই দুটি ইউএপিএ মামলা দায়ের হয়েছে বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে৷ জারি হয়েছে লুক আউট নোটিশ৷ আজ লেবংয়ে বড়সড় অস্ত্র কারখানার সন্ধান মেলায় তৃতীয় বারের জন্য বিমলের বিরুদ্ধে অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে জেলা প্রশাসন৷

অন্যদিকে, মোর্চা প্রধান বিমল গুরুংকে জেলের ঘানি টানাতে প্রস্তুতি শুরু করেছেন রাজ্য পুলিশের দুঁদে গোয়েন্দারা৷ জানা গিয়েছে, সিআইডির ডিএসপি পদমর্যাদার এক মহিলা অফিসারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এক বিশেষ দল গুরুংয়ের গোপন ডেরায় অভিযান চালাবে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে৷ আজ, এই মর্মে সিকিম পুলিশকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির শিলিগুড়ির স্পেশাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট অজয় প্রসাদ৷

কেননা, গত শুক্রবার গুরুংকে ধরতে সিকিমের নামচিতে অভিযান চালাতে গিয়ে রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে খুনের মামলায় দায়ের করেছিল সিকিম পুলিশ৷ পর্যটক সেজে অভিযান চালাতে গিয়ে সিকিম পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছিল রাজ্য পুলিশ৷ গতবারের অভিযান থেকে শিক্ষা নিয়ে সিকিম পুলিশকে চিঠি দিয়ে নয়া অভিযানের কথা বলা হয়েছে৷ তবে, কীভাবে, কবে, কোথায় অভিযান চালানো হবে তা কোনও ভাবেই সিকিম পুলিশকে জানানো হয়৷ কারণ, সিকিম পুলিশ বিমলকে আড়াল করছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে৷ ফলে, গুরুংকে ধরতে বেশ সাবধানী পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য প্রশাসন৷

ফলে পাহাড়ের বড়সড় অস্ত্রকারখানার সন্ধান এবং মাথার উপর তিন তিনটি মামলার জেরে চাপ বাড়ছিল গুরংয়ের৷ তার উপর বিক্ষুব্ধ মোর্চা নেতা বিনয় তামাঙের হাটে হাঁড়ি ভাঙার হুংকার বিড়ম্বনা আরও বাড়িয়েছে৷ এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল রাজ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নয়া অভিযানের কৌশল৷ ত্রিমুখী আক্রমণের সামনে বেসামাল বিমল গুরুং কী পারবেন পাহাড়ের মোর্চা সাম্রাজ্য ধরে রাখতে? নাকি, পাল্টা কৌশল বদল করবেন তিনি? নাকি, শেষমেশ তাঁকে যেতে হবে জেলে? পাহাড়ের রাজনীতিতে এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে৷