হাওড়াঃ  ৪১৯ জন চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কর্মীরা গত প্রায় আট মাস যাবৎ বেতন না পাওয়ায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছিল হাওড়া পুরসভায়। অবশেষে সেই জট কাটতে চলেছে। আজ শুক্রবার দুপুরে পুরসভার প্রশাসকমন্ডলীর মধ্যে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়রা। পরে বৈঠক শেষে তাঁরা জানান, খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে সরকারি নির্দেশ ঘোষণা করা হবে। এছাড়াও এদের বেতন যাতে নিয়মিতভাবে হয় এবং জয়েনিং এর দিন থেকে বকেয়া বেতনের টাকা যাতে মিটিয়ে দেওয়া হয় সেই বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে চাকুরিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে ৪১৯ জনকে নিয়োগ করা হয়। কিন্তু প্রায় কয়েক মাস কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত বেতন পাননি এই সমস্ত কর্মীরা। এই অবস্থায় মাইনে না পেলেও এতদিন ধরে কাজ চালিয়ে আসছিলেন এইসব কর্মীরা। বারেবারে বিভিন্ন জায়গায় এই বিষয়ে দরবার করলেও কোনও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। সব জায়গায় শুধু আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই পাননি তাঁরা। এমনকি গত লোকসভা ভোটের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে গিয়েও দেখা করে আসেন এই সমস্ত কর্মীরা।

এদিন বৈঠক শেষে রাজ্যের সমবায় অরূপ রায় বলেন, “আজকের বৈঠকে পুরসভার ৪১৯ জন চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কর্মীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এদের সকলকে কাজে রেগুলারাইজ করা হচ্ছে। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে এবিষয়ে কথা হয়ছে। তিনিও এব্যাপারে রাজি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী। তাঁর মন্তব্য, শুধু দফতরের একটা অর্ডারের অপেক্ষায় আমরা রয়েছি। আজকের মিটিংয়ে রেজলিউশন করা হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে এদের বেতন ক্লিয়ার করা হয়। গত ১০ জুন এই বিষয়ে পুরমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। শুধু একটা অর্ডারের জন্য অপেক্ষা করছি। অর্ডার মিউনিসিপ্যাল অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট থেকে এলেই বেতন ক্লিয়ার করে দেওয়া হবে”।

এদিকে, এদিন বৈঠকের সময়ে পুরভবনের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন বেতন না পাওয়া সকল অস্থায়ী কর্মীরা। বৈঠক শেষে বাইরে এসে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হতেই আনন্দে মেতে ওঠেন তারা। এই প্রসঙ্গে পুর কমিশনার বিজিন কৃষ্ণ জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্ত সরকারকে জানানো হবে। সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে সেই অনুযায়ী কাজ করবে পুরনিগম। এদিনের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের বিষয়ে সকল প্রশাসকমণ্ডলী সহমত পোষণ করেছেন।

অন্যদিকে কমিশনার আরও জানান, বর্ষা শুরুর আগে হাওড়ার নিকাশি নিয়ে এদিন আলোচনা হয়। ইতিমধ্যে কতটা কাজ হয়েছে, কোথায় কি সমস্যা রয়েছে এবং কি কি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এরপর থেকে প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর প্রশাসকমন্ডলী বৈঠকে বসবে। আগামী ৪ জুলাই প্রশাসকমন্ডলীর পরবর্তী বৈঠক হবে। শুক্রবার বিকেলে হাওড়া পুরনিগমের কনফারেন্স রুমে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের তিন মন্ত্রী অরূপ রায়, রাজীব বন্দোপাধ্যায় ও লক্ষ্মীরতন শুক্লা।এছাড়াও ছিলেন প্রশাসকমন্ডলীর অপর সদস্য প্রাক্তন মেয়র ডাঃ রথীন চক্রবর্তী। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পুর কমিশনার বিজিন কৃষ্ণ।