ইসলামাবাদ: ভয়াবহ হামলার শিকার পাকিস্তান। এই হামলা ভারত বা অন্য কোনও রাষ্ট্র করেনি। হামলাকারী হচ্ছে হিউম্যন ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস বা এইচআইভি। এই ভাইরাসের কবলে পরে বহু মানুষ এইডস রোগে আক্রান্ত হয়েছে। শত শত মানুষের প্রাণ গিয়েছে সাম্প্রতিক অতীতে।

এইচআইভি মহামারির আক্র নিয়েছে পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকায়। বিস্ময়কর হলেও এখন এটাই বাস্তব সিন্ধু প্রদেশে। গ্রামের পর গ্রাম আতঙ্ক আর হাহাকারে ভুগছে। হাসপাতাল–স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপচে পড়েছে ভিড়। সন্তানদের বাঁচাতে মহিলাদের আর্তনাদে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। গোটা সিন্ধু প্রদেশে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে এইচআইভি। সরকারি সূত্রে সংখ্যাটা ৪০০। যার মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

এই বয়ানক মহামারির কারণে স্থানীয় অজ্ঞ চিকিৎসকদের কাঠগড়ায় তুলেছেন আক্রান্তদের পরিজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, “স্থানীয় কিছু হাতুড়ে ডাক্তারদের গাফিলতিতেই এমন ঘটনা ঘটেছে। কোনওভাবে টীকাকরণের সময় বা শিশু‌–মহিলাদের স্বাস্থ্যপরীক্ষার সময়ে সংক্রামিত সিরিঞ্জ ব্যবহার করেছিলেন চিকিৎসকরা। তা থেকেই এইচআইভি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তাদের শরীরে।”

স্থানীয় বাসিন্দা আহমেদ বলছেন, “গ্রাম বা শহরতলিতে রমরমিয়ে ব্যবসা খুলে বসেছে হাতুড়ে ডাক্তাররা। তাদের গাফিলতিতেই এই সংক্রমণ মহামারীর আকার নিচ্ছে। আমার এক বছরের মেয়ে এইচআইভি রোগে আক্রান্ত।” মুখতার পারভেজ বলেছেন, ‘আমার মেয়ের জ্বর হয়েছিল। রক্ত পরীক্ষায় দেখা গেল এইচআইভি পজিটিভ। কী করে এমন হল বুঝতে পারছি না।’ আরও অভিযোগ, “কিছু হাতুড়ে ডাক্তারদের গাফিলতিতেই এমন ঘটনা ঘটেছে। কোনওভাবে টীকাকরণের সময় বা শিশু‌–মহিলাদের স্বাস্থ্যপরীক্ষার সময়ে সংক্রামিত সিরিঞ্জ ব্যবহার করেছিলেন চিকিৎসকরা। তা থেকেই এইচআইভি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তাদের শরীরে।”

একই সুর শোনা গিয়েছে প্রশাসনের গলাতেও। সিন্ধু প্রদেশের প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এপ্রিল মাসে সিন্ধু প্রদেশের লারকানা অঞ্চল লাগোয়া ওয়াসাও গ্রামে কয়েকজন এইচআইভিতে আক্রান্ত হন। ধীরে ধীরে সেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে। এইচআইভি সংক্রমণ ছড়িয়েছে আশপাশের গ্রামগুলিতেও। ঘরে ঘরে সংক্রমণের শিকার মহিলা থেকে শিশু। সংখ্যাটা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

এই ঘটনায় হাতুড়ে ডাক্তারদেরকেই কাঠগড়ায় তুলেছে পাক প্রশাসন। যদিও সেই দাবুই খারিজ করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাঁদের দাবি, “পাকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের গাফিলতিতেই এই ঘটনা ঘটেছে। এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা পাকিস্তানে নতুন কিছু নয়। এইচআইভি সংক্রমণে বিশ্বের মধ্যে পাকিস্তানের স্থান দ্বিতীয়।”