প্রতীকী ছবি

কলকাতা: নতুন করে নিউ মার্কেট থানার এসআই ও তাঁর স্ত্রী-মেয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন৷ গতকাল আক্রান্ত হন বিভিন্ন ব্যাটেলিয়ন ও থানার ৫ পুলিশকর্মী৷ ফলে এই কলকাতা পুলিশে আক্রান্তের সংখ্যা শতাধিক৷ এছাড়া কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন অনেকে৷

পুলিশ সূত্রে খবর, এই পর্যন্ত ৫০ জন পুলিশকর্মী এবং আধিকারিক সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন৷ তার মধ্যে অনেকে আবার কাজেও যোগ দিয়েছেন৷

এরই মধ্যে ফের করোনা সংক্রমণের ঘটনা ঘটল কলকাতা পুলিশে। করোনা আক্রান্ত হলেন নিউ মার্কেট থানার এক সাব ইনস্পেক্টর৷ এবং তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের শরীরেও করোনা ভাইরাস পজিটিভ বলে জানা গিয়েছে।

ওই এসআই ও তার পরিবারের লালা রসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে শনিবার রিপোর্ট পজিটিভ আসে৷ তারপর তিনজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যদিও রবিবার দুপুর পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছু জানায়নি স্বাস্থ্য দফতর।

এর আগে করোনা আক্রান্ত হন বেলেঘাটা থানার আধিকারিক ও তাঁর পরিবারের ৬ সদস্য৷ সকলকেই বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷

সম্প্রতি ওই পুলিশ আধিকারিকের স্ত্রী অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে পুলিশ আধিকারিক ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের শরীরেও মেলে সংক্রমণ।

তারও আগে কলকাতা পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের ১৪ জন পুলিশ কর্মী একসঙ্গে করোনা আক্রান্ত হন৷ এদের প্রত্যেককেই বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা গিয়েছে,করোনা আক্রান্ত ১৪ জন পুলিশ কর্মীর মধ্যে সেপাই, এএসআই বা অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর এবং গাড়ি চালক ছিল৷

কলকাতা পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের একাংশের অভিযোগ, উপযুক্ত সুরক্ষা ছাড়াই তাদের কাজ করতে হচ্ছে৷ ফলে অনেক সহকর্মীর করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। বার বার বলা সত্বেও পুলিশের উচুতলার অফিসাররা কর্ণপাত করছেন না৷ তাই নিচুতলার পুলিশ কর্মীদের মধ্যে দিন দিন বাড়ছে ক্ষোভ৷

কিছুদিন আগে পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের বাইরে এসে বিক্ষোভ দেখান কলকাতা পুলিশের কমব্যাট ব্যাটালিয়নের জওয়ানেরা৷ তাদের অভিযোগ, কলকাতা পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের কর্মীরা করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন । কিছু দিন আগেই এক জন কমব্যাট ব্যাটালিয়নের জওয়ান আক্রান্ত হয়েছেন । কিন্তু তার সংস্পর্শে আসা পুলিশ কর্মীদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়নি।

এছাড়া করোনা হাসপাতালে গরফা থানায় এক পুলিশকর্মীর মৃত্যু হলে৷ থানায় বিক্ষোভ দেখান অন্যান্য পুলিশকর্মীরা৷ ভাঙচুরও করা হয় থানার একাংশে। জানা গিয়েছে, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে রবিবার এমআর বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি করা গড়ফা থানার এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টরকে৷ সেখানেই তার মৃত্যু হয়৷

অভিযোগ, ওই পুলিশকর্মীর যে চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল,সময় মতো তা হয়নি।ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন বিক্ষোভকারী পুলিশ কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, আরও আগে ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন ছিল।

এছাড়া তাকে কেন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হল না৷ কেন এমআর বাঙুরের সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেস (সারি) ওয়ার্ডে ভর্তি করা হল৷ গরফার ঘটনা প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (সদর) শুভঙ্কর সিনহা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন,গরফা থানার এক পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প