নয়াদিল্লি : পৃথিবী জুড়ে চলছে কালান্তক করোনার কালবেলা৷ মারণ ব্যাধির থাবায় বিপর্যস্ত গোটা দুনিয়া। রেহাই নেই ভারতেরও। দীর্ঘমেয়াদি লকডাউন কাটিয়ে নিউ নর্মাল পর্বেও স্বস্তি দিচ্ছে না দেশের দৈনিক সংক্রমণের গ্রাফচিত্র। বরং করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় রীতিমতো কাবু সারাদেশ।

আর ভারতের এই বর্তমান করোনা পরিস্থিতিকে ১৯৯৯ সালের জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে তিনমাস ধরে চলা কার্গিল যুদ্ধের থেকেও ভয়ংকর বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল বেদ প্রকাশ মালিক। জেনারেল বেদ মালিক কারগিল যুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনা প্রধান ছিলেন।

দেশের দৈনিক করোনার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। এই বিষয়ে রবিবার একটি টুইটে তিনি বলেন, ” ভারতের যা অবস্থা তা কার্গিল যুদ্ধের থেকেও ভয়াবহ। প্রতিদিন করোনা সংক্রমণের জেরে যেভাবে সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন তাতে তিন মাস ধরে চলা কার্গিল যুদ্ধের সময়ও বোধহয় এত সংখ্যক মানুষ মারা যাননি।

তিনি আরও বলেন, দিল্লি সীমান্তে কৃষকদের আনদোলন অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে ভোটের র‍্যালি, রোড-শো, প্রচার জনসভা চলছে তাতে আগামীদিনে দেশের করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা যথেষ্ট চিন্তার বিষয়।

এদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্যানুযায়ী রবিবার পর্যন্ত সারাদেশে মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে, ২ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৫০১ জনের। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত ভারতে ১ কোটি ৪৭ লক্ষ ৮৮ হাজার ১০৯ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। মৃতের সংখ্যা পৌঁছল ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৫০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৪২৩ জন। এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ২৮ লক্ষ ৯ হাজার ৬৪৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ১৮ লক্ষ ১ হাজার ৩১৬।

করোনা সংক্রমণ রোধে শুরু হয়েছে টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া। এখনও পর্যন্ত দেশের মোট ১২ কোটি ২৬ লক্ষ ২২ হাজার ৫৯০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এখনও টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু তাতেও সংক্রমণে লাগাম টানা যাচ্ছে না। ফেব্রুয়ারির গোড়ার দিকে গোটা দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১০ হাজার জন। দিল্লি থেকে ১০০ থেকে ১৫০ জনের মতো আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিল।

কিন্তু তারপরই আচমকা বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ। মাস দুয়েকের মধ্যেই তা পৌঁছে যায় দৈনিক ২ লক্ষ আক্রান্তে। মহারাষ্ট্রে শনিবার ৬৭ হাজার ১২৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। একদিনের হিসেবে এই সংখ্যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। শনিবারের রিপোর্ট অনুযায়ী মৃত্যু হয়েছে ৪১৯ জনের। রাজ্যের মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭ লক্ষে গিয়ে পৌঁছেছে। দিল্লিতে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২৪ হাজার জন। আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.