বেঙ্গালুরু: দেখতে দেখতে পেরিয়েছে ১০ দিন। ৭ সেপ্টেম্বরের পর থেকে প্রত্যেকদিন ল্যান্ডার বিক্রমের সাড়া পাওয়ার জন্য সবরকমের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত যোগাযোগের কোনও আশা দেখা যায়নি। এবার ক্রমশ এগিয়ে সময় শেষ হয়ে আসছে। তাই আরও বাড়ছে উৎকন্ঠা। আদৌ বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে কিনা কে জানে!

ল্যান্ডিং-এর জন্য ৭ সেপ্টেম্বরকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল, কারণ ওই দিন থেকে চাঁদের মাটিতে দিনের শুরু হয়। ল্যান্ডার বিক্রম আর রোভার প্রজ্ঞানের আয়ু পৃথিবীর হিসেবে ১৪ দিন অর্থাৎ চাঁদের একটি দিন। বর্তমানে চাঁদের যে অংশে বিক্রম পড়ে আছে, সেখানে সূর্যের আলো পৌঁছচ্ছে। কিন্তু, ২০-২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাঁদে নেমে আসবে রাত। সূর্যের আলো আর পৌঁছবে না। ফলে, শক্তি হারাবে বিক্রম। চিরদিনের মত স্তব্ধ হয়ে যাবে বিক্রম।

আরও পড়ুন: আচমকা ডিগবাজি খেল ‘বিক্রম’, ঠিক কী হয়েছিল ল্যান্ডিংয়ের সময়

এখন শেষ আশা হল নাসা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তরফ থেকেও চেষ্টা চলছে বিক্রমকে খোঁজার।ঠিক চন্দ্রযান-২ এর মতই নাসার একটি অরবিটার চাঁদের চারপাশে ঘুরছে। সেটিই খুঁজে বের করতে পারে বিক্রমকে। নাসার সেই অরবিটার মঙ্গলবারই পৌঁছবে বিক্রমের কাছে। তাই ভারতের এই ল্যান্ডার এখন কী অবস্থায় রয়েছে, সেটা জানা যেতে পারে।

ল্যান্ডার বিক্রমকে ইতিমধ্যেই ‘হ্যালো’ মেসেজ পাঠিয়েছে নাসা৷ নাসা-র জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরি রেডিয়ো ফ্রিকুয়েন্সির মাধ্যমে বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগে চেষ্টা চালাচ্ছে৷ ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ ইসরো-র সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ভাবেই এই চেষ্টা করছে নাসা৷

আরও পড়ুন: ‘Hello’… স্তব্ধ বিক্রমকে মেসেজ পাঠাল NASA

চাঁদের অবতরণের মিনিট দুয়েক আগে ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ইসরোর। তবে চন্দ্রযান ২ কিন্তু পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি। অরবিটারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হয়নি। বরং সেটি সঠিক কক্ষপথে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করছে, ছবি তুলেও পাঠাবে ভারতে। নাসা-র আশা, চন্দ্রযান ২ -এর অরবিটার চাঁদ সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও অজানা তথ্য পাঠাবে৷ যেহেতু অরবিটারটিতে অত্যাধুনিক প্লেলোড আছে, ফলে চাঁদের পরিষ্কার ছবি পাঠাবে৷

শুক্রবার রাত ১.৫২ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে অবতরণের সময় নির্দিষ্ট ছিল৷ ঠিক তার আগেই সংকেত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় চন্দ্রযান ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে। চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে কয়েক বিলিয়ন বছর সূর্যালোক ঢোকেনি৷ সেখানে জলের সঞ্চয় রয়েছে বলে মনে করা হয়। সেখানেই নামার কথা বিক্রমের।

ভারত এই অভিযানে সম্পূর্ণভাবে সফল না হলেও ইসরোর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছে আমেরিকা থেকে জাপান।