নয়াদিল্লিঃ ক্যালেণ্ডারের পাতা বলছে সোমবারই বর্ষাকাল শেষ হওয়ার তারিখ। তবে বাস্তব সেকথা বলছে না। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এখনও অঝোর বর্ষণে ভিজছে। আগামী এক সপ্তাহ এই বৃষ্টি থাকবে বলে জানাচ্ছে মৌসম ভবন। রবিবার মৌসম ভবনের ডিরেক্টর জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বলেন পয়লা জুন থেকে শুরু হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে বর্ষাকাল থাকে। তবে এবছর বৃষ্টির আকালে জোয়ার আসে ১৫ই জুলাইয়ের পর থেকে। পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে পুরোদমে শুরু হয় বর্ষা।

ফলে বর্ষাকাল শেষ হওয়ার তারিখ পেরোলেও আশার বাণী শোনাচ্ছে না মৌসম ভবন। তাঁদের দাবি আরও কিছুদিন ভোগাবে বৃষ্টি। রাজস্থান, বিহার, উত্তরপ্রদেশের কপালে এখনও দুঃখ রয়েছে। পাঁচই অক্টোবর পর্যন্ত গুজরাতের একাংশ জুড়ে থাকবে একটি গভীর নিম্নচাপ। যার জেরে বৃষ্টি চলবে পশ্চিম ও মধ্য ভারতে। তেসরা অক্টোবর পর্যন্ত এইসব রাজ্যে ভারি বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করেছে মৌসম ভবন। ভারি থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে পশ্চিমবঙ্গের গাঙ্গেয় উপত্যকা, ঝাড়খণ্ড ও পূর্ব উত্তরপ্রদেশে। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হবে পঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রের একাংশ ও উত্তর ওডিশায়।

একই পরিস্থিতি থাকবে গুজরাত, মিজোরাম, ত্রিপুরা, কেরল ও লাক্ষাদ্বীপে। মৌসম ভবনের রেকর্ড বলছে ১৯৬০ সালের পর এই প্রথম এত বিলম্বিত বর্ষা দেখল ভারত। তবে ২০১০ সালের পর থেকে বর্ষার সময় ক্রমশ পিছিয়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে ৯ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে দেশ জুড়ে। তবে ঘাটতি রয়ে গিয়েছে এখনও। পূর্ব ও উত্তর পূর্ব ভারতে যথাক্রমে -১৩ ও ৩ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে।

জানা গিয়েছে মধ্য ভারতে অর্থাৎ মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, ওডিশা, ছত্তিশগড়, গুজরাত ও গোয়াতে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৮ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ ভারত অর্থাৎ কর্ণাটক, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, পুদুচেরি, তামিল নাড়ু, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ১৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।