নয়াদিল্লি: চার মাসের বর্ষাকালের দ্বিতীয় দফা অর্থাৎ অগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টি হবে দেশ জুড়ে। জানিয়ে দিল আইএমডি বা ইন্ডিয়ান মেটারোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট। শুক্রবার আইএমডি জানিয়েছে দ্বিতীয় দফার বৃষ্টিপাতের ৯৭ শতাংশই অগাষ্ট মাসে হবে।

হাওয়া অফিস জানাচ্ছে ৯৬ থেকে ১০৪ শতাংশ বৃষ্টিপাতকে কোনও মরশুমের সাধারণ গড় বৃষ্টিপাত বলে ধরা হয়। পয়লা জুন থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল চলে এদেশে।

মৌসুমি অক্ষরেখা জুনের শেষ থেকে বেশিরভাগ সময় হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থান করছে। সেখান থেকে বিশেষ নড়ছে না। দক্ষিণবঙ্গে কয়েকদিনের জন্য এলেও তা তেমন সক্রিয় থাকছে না। তা উত্তরের দিকে অবস্থান করায় নেপাল, বিহার, উত্তরবঙ্গ, সিকিম, উত্তর-পূর্ব ভারতে বৃষ্টি ধরছেই না। গত ক’দিনে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হতে শুরু করেছিল।

আবহাওয়া দফতর আবার জুলাইয়ের শেষ দু’-তিন দিনে প্রবল বৃষ্টির আভাস দিয়েছে এই অঞ্চলে।বৃষ্টির পরিমান যে ইতিমধ্যেই অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে তা স্পষ্ট। এরপর আরও বেশি বৃষ্টি অপেক্ষা করে রেয়েছে এই জেলাগুলির জন্য। এদিকে, বর্ষাকালের ক্ষেত্রে মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থান নির্ধারণ করে বৃষ্টিপাতের পরিমাণের উপর। এমনিতেই উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হচ্ছে এই বছর। তার মধ্যে এ বার অক্ষরেখা হিমালয়ের পাদদেশে থিতু হওয়ায় ফলে সেখানে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হচ্ছে। এ পর্যন্ত জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারের বহু এলাকায় বেশ কয়েকদিন অতি ভারী বর্ষণ হলেও বড়সড় বন্যার মুখে পড়েনি উত্তরবঙ্গ।

অন্যদিকে, বন্যার জেরে বিহারে ৩৮ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৩১ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে এনে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারি সূত্র অনুসারে, দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর মোট ২৬ টি দল ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় রয়েছে। তাঁরা উদ্ধার কাজ ও ত্রাণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে অসমেও। রাজ্যের ২৬টি জেলার প্রায় ৫৭ লক্ষ মানুষ বন্যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। করোনা ও বন্যার জোড়া ফলায় বিদ্ধ অসম। ঘোরতর বিপদে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্য। অসমের ২৬টি জেলা বন্যার জেরে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাড়িঘর, রাস্তা ভেঙে ভয়ঙ্কর ছবি জেলায়-জেলায়। রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে বন্যার জেরে অসমে ৫৬ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪৯৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে বেসরকারি মতে সংখ্যাটা আরও বেশি। বন্যা দুর্গত এলাকায় প্রশাসনের তরফে মোট ৮৮৭টি ত্রাণ শিবির চালু রয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অসমের ধুবরি, লক্ষ্মীপুর, বিশ্বনাথ, দারাং, বকসা, নলবাড়ি, বরপেটা, ধীমাজি, কোকরাঝাড়, চিরাং, গোলাঘাট, জোড়হাট, মাজুলি, শিবসাগর, ডিব্রুগড়-সহ একাধিক জেলা বন্যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।