লখনউ: মঙ্গলবার রাত থেকে বহু প্রতিক্ষিত বৃষ্টি শুরু হলেও, উত্তর প্রদেশের জন্য তা খুব একটা সুখকর হল না৷ ইতিমধ্যেই নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলিতে বন্যার সতর্কবার্তা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন৷ মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও রাজস্থানে চলছে টানা বৃষ্টি৷

উত্তরপ্রদেশের নিচু অঞ্চলগুলি ইতিমধ্যেই জলের তলায়৷ মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ২০ জনের৷ আহত হয়েছেন ১৯ জন৷ রাস্তা জলের তলায়, ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে৷ নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষজনকে সরানো হয়েছে নিরাপদ স্থানে৷ সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি বলরামপুর জেলার৷ ১৮ ঘণ্টা ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে ওই জেলায়৷

জেলার ট্রেন লাইন জলে ডুবে গিয়েছে, ফলে রাজ্যের অন্যান্য অংশের সঙ্গে বলরামপুর জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন৷ এরই মধ্যে বুধবার সকালে একটি অ্যাম্বুলেন্স জলে আটকে পড়ে৷ পড়ে মোবাইল অ্যাম্বুল্যান্স ইউনিট গিয়ে রোগীকে উদ্ধার করে৷ একই পরিস্থিতি কুশীনগরের৷ শহরের নিচু এলাকায় আটকেয়ায় স্কুলের বাস৷ স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের হস্তক্ষেপে বাসে আটকে পড়া পড়ুয়াদের বের করা হয়৷ গাফিলতির জন্য স্কুল বাস চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে৷

আরও পড়ুন : মোদী সরকারের চমক, র-এর দায়িত্বে বালাকোট স্ট্রাইকের মাস্টারমাইণ্ড গোয়েল

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের একাংশ জলের তলায়৷ ৩রা জুলাইয়ের মধ্যে গোটা রাজ্যেই বর্ষা প্রবেশ করবে বলে জানা গিয়েছে৷ আইএমডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রতলাম, জাবুয়া, আলিরাজপুর, ধার, উজ্জ্বয়ন, ইন্দোরে বৃহস্পতিবার থেকেই ভারি বৃষ্টি শুরু হবে৷

হিমাচল প্রদেশের জন্যও একই সতর্কবার্তা জারি করেছে হাওয়া অফিস৷ টানা বৃষ্টির জন্য গরমের তীব্রতা অনেকটাই কমে এসেছে৷ কিন্নরে ভূমি ধ্বসের খবর মিলেছে৷ ফলে সিমলার রাস্তায় লম্বা যানজট তৈরি হয়েছে৷ রীতিমত সমস্যায় পড়েছেন পর্যটকরা৷ হিমাচল প্রদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বুধবার ছিল ২৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ মানালিতে তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি, ডালহৌসিতে ২০.৪ ডিগ্রি, কুফরিতে ১৬.১ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছিল৷

জুন মাসের ৮-৯ তারিখ উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে জানানো হয় ১১টি জেলায় ঝড় ও বাজ পড়ে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ কোন জেলায় কতজনের মৃত্যু হয়েছে তার হিসাবও দেওয়া হয়৷ যেমন জাউনপুর ও সুলতানপুরে পাঁচ জন, উন্নাওয়ে চার জন, চন্দাওলি ও বাহরেইচে তিন জন, রায়বেরলিতে দুই জন এবং মীর্জাপুর, সীতাপুর আমেথি ও প্রতাপগড়ে এক জন করে মারা গিয়েছে৷ ধুলো ঝড়ে ক্ষতি হয় কনৌজ জেলার৷

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এগারটি জেলার জেলাশাসকদের অবস্থা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন৷ সেই সঙ্গে নিহত পরিবারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসও দেন৷