স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গুজব রুখতে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজরদারি রাজ্য প্রশাসনের৷ বিতর্কিত পোস্ট করলেই নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা৷ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শনিবার থেকে নবান্নে চালু হল মনিটরিং সেল৷ রাজ্য পুলিশের দফতর থেকেও সরাসরি নজরদারি চালানো হবে।

গুজবের জেরে এ রাজ্যে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি পুলওয়ামা-কাণ্ডের পরে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে।সন্দেহের বশে নিরীহ মানুষকে মারধর করা হচ্ছে। জঙ্গি হামলার পর নদিয়ায় কাশ্মীরের এক শাল ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই শক্ত হাতে সমস্যার মোকাবিলা করতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার৷

কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর প্রশাসনকে এব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ৪০ জন গ্রেফতার হয়েছে৷

প্রশাসনকে কড়া হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে প্ররোচনা এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত সোমবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে আরএসএস-বিজেপি-বিশ্বহিন্দু পরিষদকে কাঠগড়ায় তুলে তাঁর অভিযোগ, প্ররোচনা দিয়ে ইচ্ছে করে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছে। এটা একটা গেমপ্ল্যান। শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের কাছে অনুরোধ, আমরা যেন এই প্ররোচনায় পা না-দিই। আমরা যেন নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি না করি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, পাঠানকোট, উরি হামলার সময় এমন গণ উন্মাদনা দেখা গেল না কেন? কেন সেই সময় এখনকার মতো সরব ছিলেন না মোদী, অমিত শাহ? তাঁর মতে, দেশে একটা গণ উন্মাদনা তৈরি করা হয়েছে। এই গণ উন্মাদনা দিয়ে রাজ্যে দাঙ্গা বাধানোর উসকানিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। তিনি জানিয়েছেন, যারা ধর্মীয় উসকানি, ফেক নিউজ, জাতি বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

শনিবার নবান্নে মনিটরিং সেল চালু করার পাশাপাশি প্রশাসনের উচ্চপদস্থ অফিসাররাও বৈঠকে বসেছেন৷