স্টাফ রিপোর্টার, কৃষ্ণনগর: সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে নিয়ে ব্যাপক অস্বস্তিতে পড়লেন জেলা পর্যবেক্ষক রাজীব বন্দোপাধ্যায়। ফোনকাণ্ডের পর মহুয়াকে দল আড়াল করছে কিনা সেব্যাপারে তাঁর কাছে জানতে চাইলেন জেলা পরিষদের সদস্যরা।

শুক্রবার জেলা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে জেলা পর্যবেক্ষক রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকে সাংসদ তথা কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মহুয়া মৈত্রর থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি বৈঠকে যোগ দেননি। এদিন রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের কাছে মহুয়ার অনুপস্থিতির কারণ জানতে চান জেলা পরিষদের সদস্যরা। একই সঙ্গে তাঁরা রাজীব বন্দোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করেন, দিলীপ ঘোষ তাকে ফোন করার কথা বলতেই কি মহুয়া মৈত্রকে দল আড়াল করছে?রাজীব অবশ্য দাবি করেন, মহুয়া শারীরিক কারণে জেলার বাইরে আছেন। তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে আজও ওঁর কথা হয়েছে। কালও কথা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাজ্য বিজেপির প্রধান দিলীপ ঘোষ সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ‘অনুরোধে’ তিনি দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন৷ তিনি বলেন, “মহুয়ার সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়। অন্য কথার ফাঁকে তিনি আমাকে তৃণমূল বিধায়ক দেবশ্রীর সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, দেবশ্রী মনোকষ্টে আছেন। আমি যেন দেখা করি।” যদিও মহুয়ার পাল্টা প্রশ্ন, “এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? দিলীপবাবু রসিক মানুষ। উনি রসিকতা করে থাকলে আমি কী করতে পারি!”

এব্যাপারে মহুয়ার বক্তব্য ছিল, দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সেন্ট্রাল হলে দেখা হত। ওনার সঙ্গে দেবশ্রীকে নিয়ে কথা হয়নি বা আলাদা দেখা হয়নি। মহুয়া আরও জানান, বিজেপি সভাপতি যেদিন বিধানসভায় এলেন আমায় বললেন উনি করিমপুর যাচ্ছেন। আমি বললাম ইয়ার্কি মেরে আমার জন্য গিয়ে এক্সট্রা ঝামেলা তৈরি করবেন না। এর থেকে বেশি কিছু বলার নেই বলে জানিয়েছেন মহুয়া। এইসব অযথা বিতর্ক আমার থাকার ব্যাপার নেই, জানিয়ে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

ইতিমধ্যেই মহুয়াকে নিয়ে কৃষ্ণনগরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রতি মাসে দলের জেলা সংগঠনে দুই স্তরে বৈঠক করার নির্দেশ দিয়ে যে চিঠি মহুয়া পাঠিয়েছিলেন। তার নীচে ‘বাই অর্ডার’ কথাটি লেখা ছিল। তা নিয়ে নাকাশিপাড়ার বিধায়ক কল্লোল খাঁ- তাঁর ক্ষোভের কথা জানিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছিলেন।

এ দিন সেই প্রসঙ্গ উঠলে ফের অস্বস্তিতে পড়েন রাজীব। তিনি বলেন, “আমি জানি না, কী করে এই চিঠি সংবাদমাধ্যমের কাছে গিয়েছে। কল্লোল খাঁ যদি কিছু বলেও থাকেন, তা হলে সেটা দলনেত্রীকে বলেছেন আর পর্যবেক্ষক হিসাবে আমার কাছে এসেছে। এই বিষয় নিয়ে আমি সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলব না।”