নয়াদিল্লি: আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে পড়শি ক্লাবের আই লিগ চ্যাম্পিয়নের পথে কাঁটা হতে চেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ধোপে টিকল না কিছুই। ২০১৯-২০ আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগানই। শনিবার টেলিকনফারেন্সে বৈঠকের পর আই লিগ কমিটির এই সুপারিশ ইতিমধ্যেই চলে গিয়েছে এআইএফএফ’র কার্যকরী কমিটির কাছে। শীঘ্রই কার্যকরী সমিতি সরকারিভাবে কিবু ভিকুনার দলকে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার পাশাপাশি ফিরতি কলকাতা ডার্বি সহ আই লিগের বাকি ২৮ ম্যাচ বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও ঘোষণা করবে এক্সিকিউটিভ কমিটি। শনিবার লিগ কমিটির বিভিন্ন সুপারিশগুলো পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এক্সিকিউটিভ কমিটিকে। উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের জেরে ১৪মার্চ মাঝপথে স্থগিত হয়ে যাওয়া আই লিগকে ওখানেই শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। কিন্তু নিজেদের চার রাউন্ডের ম্যাচ বাকি থাকতেই মোহনবাগান ১৬ পয়েন্টের ব্যবধান তৈরি করে এমন উচ্চতায় পৌঁছে যায় যে বাকি ম্যাচগুলোতে জয় পেলেও কোনও দলের পক্ষে বাগানকে ছোঁয়া সম্ভব ছিল না।

স্বাভাবিকভাবেই মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার বিষয়টি প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু হঠাতই দিনদুয়েক আগে মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হলে আইনি লড়াইয়ের হুমকি দিয়ে বসেন লাল-হলুদের এক শীর্ষ কর্তা। বাকি ম্যাচগুলো না খেলে টুর্নামেন্ট বাতিল হয়ে গেলে মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একইসঙ্গে জানান পুরো টুর্নামেন্ট খেলা হলে শৃঙ্খলাজনিত কারণে বাগানের পয়েন্ট কাটা গেলে বাকি দলগুলোর কাছে চ্যাম্পিয়নের পথ খোলা থাকত।

যাইহোক, ইস্টবেঙ্গল কর্তার এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ এদিন লিগ কমিটির বৈঠকে প্রশ্রয় পায়নি বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। সবমিলিয়ে প্রত্যাশামতোই বাগানকে চ্যাম্পিয়ন করার বিষয়টিতে সিলমোহর দিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে করোনার জেরে আই লিগের বাকি ম্যাচগুলো আর আয়োজন না করার পক্ষেই সায় দিয়েছেন তারা।

লিগ স্থগিত হওয়ার সময় যেহেতু দ্বিতীয়স্থানে অবস্থান করছিল ইস্টবেঙ্গল। তাই বাগানকে চ্যাম্পিয়ন করা হলে তাদেরকে রানার্স করারও দাবি তুলেছিলেন লাল-হলুদ কর্তা। লিগ কমিটি ইস্টবেঙ্গলের সেই প্রস্তাবকেও গ্রহণ করেনি। চ্যাম্পিয়নের জন্য নির্ধারিত পুরস্কারমূল্য মোহনবাগানকে তুলে দেওয়া হলেও বাকি পুরস্কারমূল্য ভাগ করে দেওয়া হবে লিগের বাকি দলগুলির মধ্যে। সেক্ষেত্রে অবনমনও থেকেও এবছর আই লিগকে বিরত রাখা হচ্ছে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প