সুভীক কুন্ডু, কলকাতা: বাগানে অগ্রিম বসন্ত! শীতের শেষ বেলায় বসন্ত শুনে চমকাবেন না৷ কালো মেঘ সরিয়ে বাগানে যেন বসন্তের ফুরফুরে হাওয়া৷ খালিদ জামিলের হাত ধরে জোড়া জয়ে ফুল ফুটল বাগানে৷

আরও পড়ুন- নেরোকার বিরুদ্ধেও ‘ফ্রি-ফুটবলার’ সনি

কোন মন্ত্রে ঢাকা ঘুরল৷ ম্যাচ শেষে যুবভারতীর কনফারেন্স রুমেই উত্তর দিয়ে গেলেন কোচ-ফুটবলার জুটি৷ ম্যাচ জিতেই দলের ভূসয়ী প্রশংসায় বাগানের হেডস্যার৷ সাংবাদিকদের প্রথম প্রশ্নে একে একে সনি-ডিকা, ফৈয়াজদের ভালো খেলার জন্য থ্যাঙ্কস জানিয়ে গেলেন৷ গলায় সুরটা আসলে ‘সবে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ৷’

আরও পড়ুন- মাহিকে দরাজ সার্টিফিকেট অজি দলনেতার

বরাবরই টিমম্যান, তবে ময়দানের শেষ ইনিংসে ফুটবলারদের বিশ্বাস করেন না বলে অভিযোগ ছিল৷ এবার দ্বিতীয় ইনিংসের দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে অন্তত খালিদকে নিয়ে অভিযোগ করা যায় না৷ থ্যাঙ্ক গিভিং শেষে পাল্টা সাংবাদিকদেরই খালিদের প্রশ্ন কাউকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলে গেলাম না তো!

ফাইল চিত্র

এটা যদি কয়েনের একদিক হয়, তবে উল্টোদিকে কোচকে লেটার মাকর্স দিয়েছেন ফুটবলাররা৷ শংকর জমানায় বাদের খাতায় নাম লেখানো বাগানের বাজপাখি শিল্টন এখন খালিদ যুগে তেকাঠিতে প্রথম চয়েস৷ নেরোকার বিরুদ্ধে তেকাঠিতে এদিন অপ্রতিরোদ্ধে ছিলেন বাগানের লাস্ট লাইন অফ ডিফেন্স৷ ম্যাচের সেরাও হলেন শিল্টন৷ ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কোচ জামিলকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন বঙ্গ গোলকিপার৷ সঙ্গে শুনিয়ে গেলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই কোচ আমার উপর বিশ্বাস রেখেছে৷ ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছেন নয়া কোচ৷’

সনির গলাতেও একই সুর৷ প্রথম দিন থেকেই সনিকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছেন জামিল৷ ফলও মিলেছে হাতে নাতে৷ চোট সারিয়ে দলে ফিরে ফের বাগান জনতার ভরসা হয়ে উঠছেন হাইতিয়ান বিদেশি৷ পঞ্জাব ম্যাচে গোল করিয়েছিলেন, এদিন নেরোকার বিরুদ্ধে নিজে গোল করলেন৷ হার্ড ওয়ার্কে মিলছে ফল৷ আর বাকিটা কোচের পক্ষ থেকে পাওয়া  একট্রা মেটিভেশনকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন বাগানের হার্টথ্রব৷

‘বিতর্কিত’ কোচই এখন বাগানের ড্রেসিংরুমের আসল গেম মেকার৷ ফুটবলারদের সঙ্গে রসায়ন দারুণ রেখে আর সনি-শিল্টনদের আত্মবিশ্বাসের গ্রাফে চাপ দিয়ে বাগানের জয়ের চাকা ঘোরাচ্ছেন খালিদ ‘দ্য টিমম্যান’৷